ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা নানা অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি নতুন করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক মতভেদের কারণে বিরোধী শিবিরের সমর্থকদের উপর চাপ সৃষ্টি, মারধর এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ তোলা হতো এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসায়িক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হতো।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ফলতা থানায় তোলাবাজি, মারধর ও খুনের চেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই জাহাঙ্গীর খান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বেআইনি সম্পত্তি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচনের সময় বিরোধী সমর্থকদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো নানা অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর খানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি পলাতক হয়ে যান। পরে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে গ্রেফতার করে।একসময় নিজেকে দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় চরিত্র ‘পুষ্পা’-র সঙ্গে তুলনা করা জাহাঙ্গীর খানের এই নাটকীয় পতন এখন ফলতা-সহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচিত বিষয়। তাঁর গ্রেফতারির পর এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনাও শুরু হয়েছে।