প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী ও বিধাননগরের সাবেক বিধায়ক সুজিত বসু নির্বাচনী হলফনামায় নিজের ও স্ত্রী স্বর্ণালী বসুর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন তিনি। এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর পরিবারের আয় ও সম্পত্তির চিত্র।
হলফনামা অনুযায়ী, সুজিত বসুর স্ত্রী স্বর্ণালী বসুর গত পাঁচ অর্থবর্ষে আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২০-২১ সালে আয় ছিল ১৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৩০০ টাকা। এরপর ২০২১-২২ সালে ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৭০ টাকা, ২০২২-২৩ সালে ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯২০ টাকা, ২০২৩-২৪ সালে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৩৭০ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে মাত্র ৩৩ হাজার ৪৯০ টাকা।
অন্যদিকে, ওই সময়ের মধ্যে সুজিত বসুর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। ২০২৩-২৪ সালে তাঁর আয় ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ ২ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে ১ কোটি ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৭২৬ টাকা।
সম্পত্তির হিসেব অনুযায়ী, স্বর্ণালী বসুর দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে মোট প্রায় ৫ লক্ষের বেশি টাকা। এছাড়া শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ, ১৭ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া, একটি গাড়ি, সোনা ও হিরের গয়নার মালিকানা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩১ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে, স্বর্ণালী বসুর নামে পাঁচটি বাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি তিনি কিনেছেন এবং দুটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। ওই সম্পত্তিগুলির মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ ১৯ হাজার ৫০৭ টাকা।
এছাড়া, সুজিত ও তাঁর স্ত্রীর নামে কৃষিজমি বা অকৃষিজমি নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। দু’জনেরই গৃহঋণ রয়েছে এবং স্বর্ণালী বসু স্বামীর কাছ থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকারও বেশি ধার নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সবমিলিয়ে হলফনামায় উঠে এসেছে একদিকে বিপুল আয়, অন্যদিকে সম্পত্তির বিস্তৃত বিবরণ—যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।