ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জীবনের অসাধারণ সংগ্রাম,সাফল্য এবং ইতিহাস গড়ার পথচলা এবার উঠে আসতে চলেছে একটি বিশেষ ডকুমেন্টরিতে।আমির খান প্রোডাকশন্স এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টের প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ডকুমেন্টরিটির পরিচালনায় রয়েছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখিকা স্বাতী চক্রবর্তী।ওড়িশার একটি ছোট ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কীভাবে দ্রৌপদী মুর্মু দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হলেন,সেই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রাই এই প্রজেক্টের মূল আকর্ষণ।তাঁর জীবনের এমন অনেক অজানা অধ্যায়,ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং কঠিন সময়ের গল্পও এই ডকুমেন্টরির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
সূত্রের খবর,ডকুমেন্টরিটির শুটিং ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির নিজের গ্রামেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।নির্মাতারা বাস্তবতার ছোঁয়া বজায় রাখতে স্থানীয় মানুষ ও শিল্পীদেরও এই প্রজেক্টে যুক্ত করেছেন।শুধু রাজনৈতিক জীবনের সাফল্য নয়,একজন নারী হিসেবে সমাজের নানা বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার গল্পও এতে গুরুত্ব পাবে। তাঁর পারিবারিক জীবন,জনসেবার প্রতি নিষ্ঠা,রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ—সবকিছুই এই ডকুমেন্টরিতে স্থান পাবে। বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত,যখন তিনি ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
পরিচালক স্বাতী চক্রবর্তী এর আগেও আমির খানের সঙ্গে সফলভাবে কাজ করেছেন।২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশংসিত ডকুমেন্টরি ‘রুবারু রশ্নী’-র পরিচালনার দায়িত্বও তাঁর হাতেই ছিল।ফলে এই নতুন প্রজেক্ট নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা যথেষ্ট বেশি।এদিকে আমির খান প্রোডাকশন্স বর্তমানে আরও একটি বড় মাপের ঐতিহাসিক ছবি ‘বাঁটওয়ারা ১৯৪৭’ নিয়েও ব্যস্ত,যেখানে অভিনয় করছেন সানি দেওল,প্রীতি জিন্টা,শাবানা আজমি এবং করণ দেওল।তবে তার মাঝেও দ্রৌপদী মুর্মুর জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ডকুমেন্টরি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠা এক নারীর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি এবার নতুনভাবে ধরা পড়তে চলেছে ক্যামেরার ফ্রেমে।