Howrah Zilla Parishad
অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়তেই শেষমেষ পদত্যাগ করলেন তৃণমূল পরিচালিত হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরী দাস এবং সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। শুক্রবার দু’জনেই প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হলো হাওড়া জেলা পরিষদে। গত বুধবার হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন সিংহভাগ সদস্য। এই মর্মে প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিভিশনাল কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা।
জেলা পরিষদের ৪১ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ২৫ জন অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। যাঁরা এই অনাস্থা এনেছেন, তাঁদের অভিযোগ, জেলা পরিষদের কাজকর্মে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সদস্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাঁদের আরও দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায় উলুবেড়িয়া থেকে জেলা পরিষদের কাজ পরিচালনা করতেন এবং নির্বাচিত সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হতো। তারই প্রতিবাদে তাঁরা জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, দীর্ঘদিন ধরেই হাওড়া জেলা পরিষদের অন্দরে অসন্তোষ মাথাচড়া দিয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে সেটা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। এর পিছনে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের মদত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে সভাধিপতি কাবেরী দাস এবং সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ বা স্বেচ্ছাচারের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তাঁরা ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কাবেরী দাস বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ব্যক্তিগত কারণেই আমরা পদত্যাগ করেছি।’ একই সুর শোনা গিয়েছে অজয় ভট্টাচার্যের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অন্যদিকে, বিদ্রোহী সদস্যদের একাংশের দাবি, সভাধিপতি এবং সহ–সভাধিপতি পদত্যাগ করায় জেলা পরিষদের নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হলো। এখন নতুন নেতৃত্বের অধীনে জেলা পরিষদের কাজকর্ম আরও স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাওড়া জেলা পরিষদে নতুন করে সভাধিপতি ও সহ–সভাধিপতি নির্বাচন হবে নাকি সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য জেলা প্রশাসনের কোনও কর্তা মুখ খুলতে রাজি হননি।