চলতি বছরে প্রথম লোক আদালতেই রেকর্ড সাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে। একদিনে নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৭৯৮টি মামলার। মীমাংসার মাধ্যমে আদায় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ১ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন আদালতে আয়োজিত জাতীয় লোক আদালতে এই নজির গড়া হয়েছে। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন জেলার মোট ২৩টি বেঞ্চে ৩৯ হাজার ১৪৪টি মামলা তোলা হয়েছিল। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৭৯৮টি মামলা। শুধুমাত্র গাড়ি দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত (মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেম) ২৬৩টি মামলার মীমাংসা থেকেই উঠে এসেছে ১৫ কোটিরও বেশি টাকা। অন্যদিকে, ৪৭৭টি ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদায় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা।
জেলায় লোক আদালতে সবচেয়ে বেশি বেঞ্চ বসেছিল তমলুকে। ১২টি বেঞ্চ বসেছিল সেখানে। কাঁথিতে ছিল ৭টি এবং হলদিয়ায় ৪টি বেঞ্চ। কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ মার্চ প্রথম লোক আদালত হওয়ার কথা থাকলেও ‘সার’–এর কাজের জন্য তা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ৯ মে দ্বিতীয় লোক আদালত নির্ধারিত থাকলেও ৪ মে ভোটগণনার কারণে সেটিও হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৩ জুন নতুন করে দিন নির্ধারণ করা হয়। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২৬–এ এটাই প্রথম লোক আদালত বসেছিল এ দিন। সে কারণেই মানুষের সাড়া অনেক বেশি মিলেছে।’ পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা ও দায়রা বিচারক জীবনকুমার সাধু বলেন, ‘এখন অনেক বেশি মানুষ লোক আদালতের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরাও বিভিন্ন বেঞ্চ ঘুরে দেখেছি।
দ্রুত ও সহজ উপায়ে বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে লোক আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে।’ অন্য দিকে, শনিবার ঝাড়গ্রামেও বসেছিল লোক আদালত। একদিনেই আদায় হয়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। মোট ১১৮৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৬৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা আদালত চত্বরে এ দিন জাতীয় লোক আদালতের মোট ছ’টি বেঞ্চ বসেছিল। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদী বলেন, ‘নালসার গাইড লাইন অনুযায়ী কাজ হয়েছে।
ছ’টি বেঞ্চে মোট ৩,২১৫টি মামলা উঠেছিল। এ দিন কোর্টের বকেয়া ১০৫৬টি মামলা–সহ মোট ১১৮৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।’ তিনি জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের ঋণ খেলাপি, ফিন্সাসের প্রি-লিটিগেশন মামলা, অনাদায়ী ঋণ সংক্রান্ত, বিদ্যুৎ দপ্তর, মোটর ভেহিকেলস–সহ একাধিক মামলায় মোট ৬৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে এবং কোর্টের ভার কমানো যাবে।