Balurghat
ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরার নেশা ছিল বালুরঘাটের শুভেন্দু দাসের। তিনি খাদিমপুর মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক। এর আগে নিজের জেলা, অন্য জেলা এমনকী বাংলাদেশেও মাছ ধরতে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই প্রথমবার গঙ্গায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। আর প্রথমবারেই এমন অভিজ্ঞতা হবে, তা নিজেও ভাবেননি শুভেন্দু। তাঁর ছিপে ধরা পড়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি বিশাল কাতলা মাছ। প্রথমবার নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করেছেন তিনি।
সেই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। শুভেন্দু তিন বন্ধুর সঙ্গে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের ভাঙাবাড়ি এলাকার গঙ্গায় মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার জন্য এই স্পট বেশ জনপ্রিয়। ১৮ তারিখ ভোর থেকেই চার বন্ধু গঙ্গার পাড়ে ছিপ ফেলে বসেন। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পরে দুপুরের দিকে শুভেন্দুর ছিপে সজোরে টান পড়ে। বন্ধুদের সাহায্যে প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরেন তিনি। তবে এত বড় মাছ তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল শুভেন্দুকে।
বিশাল এই মাছ দেখতে শুভেন্দুর বাড়িতে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। স্থানীয়দের দাবি, দিন কয়েক আগেই সেখান থেকে এক ব্যক্তি ২৮ কেজির একটি কাতলা ধরেছিলেন। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই আবার ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় মাছটি কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজি হননি শুভেন্দু। জামাইষষ্ঠীর দিন বাড়ির সকলে মিলে সেই মাছ খাবেন বলে রেখে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। জামাইষষ্ঠীর আগে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ডেকে সেটি কাটানো হয়। আত্মীয় ও বন্ধুদের বাড়িতেও সেই মাছ পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। ২০ কেজি ওজনের মাছ ধরার স্মৃতি হিসেবে মাছের একটি বড় আঁশ সযত্নে রেখে দিয়েছেন শুভেন্দু।