Arup Biswas
লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তৃতীয় বার নোটিস দিল পুলিশ। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। এর আগে দু’বার অরূপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল পুলিশ। দু’বারই তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন। অন্য দিকে, অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক অভিযোগে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মেসি-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ।
আদালত জানিয়েছে, ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে কিছু শর্তও মানতে হবে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আইন মেনে তদন্ত হবে। পুলিশ কোনও নোটিস দিলে অরূপকে যেতে হবে। তবে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সেই নোটিস দিতে হবে পুলিশকে। এ ছাড়া, নিম্ন আদালতে সাত দিনের মধ্যে অরূপকে নিজের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি কোথাও যেতে পারবেন না। সেই মতো শনিবার নোটিস দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অরূপকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতে বলা হল।
অরূপ আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ আলিপুর থানার মাধ্যমে তাঁর কাছে নোটিস পৌঁছে দিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা মেসি। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ। তাঁর ঘনিষ্ঠেরাও ছিলেন মেসিকে ঘিরে। বাধ্য হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে মেসি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার জেরে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অরূপ।
এই সংক্রান্ত শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু হন? কেন তিনি মেসির অত কাছে গিয়েছিলেন?’’ অরূপের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শতদ্রু। তিনি আদালতে দাবি করেছেন, মোট ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল মেসির সফরের জন্য। তার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ একাই নিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যত্র তা বিক্রিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অরূপকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রথম হাজিরা এড়ান।
এর পর গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন অরূপ। পরে দ্বিতীয় হাজিরাও এড়িয়ে যান। রক্ষাকবচের পর তৃতীয় নোটিসে তিনি সাড়া দেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের টিকিট চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, পর্যাপ্ত সুসংহত কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে মেসি এবং তাঁর সঙ্গীদের আঘাত লাগে। অভিযোগ, মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন নেতা-মন্ত্রী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত। মাঠে উপস্থিত দর্শকেরা কেউ মেসিকে দেখতেই পাননি। আর্জেন্টাইন তারকা মাঠ ছাড়তেই তাই ক্রুদ্ধ জনতার তাণ্ডব শুরু হয় যুবভারতীতে। চলে দেদার ভাঙচুর। এ বার সেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।