বাঙালির অন্যতম জনপ্রিয় পারিবারিক উৎসব জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে প্রতি বছরই থাকে আলাদা উন্মাদনা। আর যখন জামাই নতুন হন,তখন সেই আনন্দ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।নিয়ম মেনে পুজো,আশীর্বাদ এবং পছন্দের নানা পদ রান্না করে জামাইকে আপ্যায়ন করার রীতি আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।সাধারণ পরিবারের পাশাপাশি টলিপাড়াতেও এই বিশেষ দিনটি ঘিরে দেখা গেল উৎসবের আবহ।ব্যস্ত শুটিং সূচির মাঝেও অভিনেতারা সময় বের করে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হয়েছেন, আর শাশুড়ি মায়েরাও তাঁদের আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখেননি।এ বছরের নতুন জামাইদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু,দেবমাল্য চক্রবর্তী ও সুজিত বসু। পাশাপাশি বাগদানের পর প্রথমবার জামাইষষ্ঠীর স্বাদ পেলেন অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তীও।
শুভস্মিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাগদান হওয়ার পর এটাই সৌরভের প্রথম জামাইষষ্ঠী।যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়নি,তবুও হবু জামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে পেয়েছেন বিশেষ আদর।উৎসবের মেনু ছিল একেবারে রাজকীয়—ইলিশ ভাপা,রুই মাছের কালিয়া, ভেটকি পাতুরি,বিভিন্ন নিরামিষ পদ থেকে শুরু করে মটন পর্যন্ত।সৌরভ মজার ছলেই বলেন,এত খাবার খাওয়ার পর নিজেকে যেন অন্য গ্রহে পৌঁছে যাওয়ার মতোই মনে হচ্ছে! তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও তাঁর দায়িত্ব ছিল শুটিং ফ্লোরে যোগ দেওয়া।তাই ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজে নয়, ফর্মাল পোশাকেই শ্বশুরবাড়িতে যেতে হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি উপহারের ঝুলিও যে বেশ ভারী হয়েছে,সে কথাও হাসতে হাসতে স্বীকার করেছেন অভিনেতা।
অন্যদিকে অভিনেতা রণজয় বিষ্ণুর কাছেও এটি ছিল প্রথম জামাইষষ্ঠী।তবে ব্যস্ত কাজের সূচির কারণে দীর্ঘ সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকা সম্ভব হয়নি তাঁর।সকালে গিয়ে শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে সরাসরি শুটিং সেটে ফিরে যান তিনি।রণজয়ের কথায়, তাঁর শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বন্ধুর মতো,তাই কাজের চাপ তিনি খুব ভালোভাবেই বোঝেন।এদিন বড়সড় ভোজে অংশ নিতে না পারলেও পরে একদিন পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এছাড়া বর্তমানে তিনি কঠোর ডায়েট মেনে চলছেন বলেও জানান অভিনেতা। ফলে এ বছরের জামাইষষ্ঠী টলিপাড়ার নতুন ও হবু জামাইদের কাছে ছিল আনন্দ,দায়িত্ব এবং পারিবারিক ভালোবাসার এক সুন্দর মেলবন্ধন।