PM POSHAN
স্কুলের পড়ুয়ারা খাবার পায় স্কুলে। কেরল শুরু করেছিল সবার আগে, ১৯৮৪ সালে। ১৯৯৫ সলের ১৫ অগস্ট থেকে চালু রয়েছে কেন্দ্রের মিড-ডে মিল প্রকল্প। সেই প্রকল্পেরই মোড়ক বদল করে ‘পিএম-পোষণ অভিযান’ ঘোষণা করে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। দেশে চালু হয়েছে ছ’বছর আগেই ৷ কিন্তু এতদিন পশ্চিমবঙ্গে পিএম পোষণ প্রকল্পের নাম অনেকেই শোনেননি ৷ এবার রাজ্য সরকারের নির্দেশে বাংলার প্রতিটি সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ প্রকল্প চালু করা হয়েছে ৷ প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের পুষ্টির মান বৃদ্ধি, স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিনামূল্যে রান্না করা মধ্যাহ্নভোজন প্রদান করা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ৷
এতদিন রাজ্যে মিড ডে মিল চালু থাকলেও পিএম পোষণ প্রকল্পের সঙ্গে তার কিছু পার্থক্য রয়েছে ৷ শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকা নন, অভিভাবক-অভিভাবিকাদেরও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে ৷ রাজ্য সরকারের নির্দেশে মালদার বিভিন্ন স্কুলে ইতিমধ্যে এনিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে পাঁচ সদস্যের একটি পিএম পোষণ কমিটি গঠন করতে হবে ৷ এই কমিটিতে স্কুলের প্রধান, একজন নোডাল শিক্ষক, দু’জন অভিভাবক ও একজন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধি থাকবেন ৷
এই কমিটিই পড়ুয়াদের খাবারের গুণগত মান, প্রতিদিনের মেনু এবং খাবার পরিবেশনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তদারকি করবে ৷ মালদা শহরের বার্লো গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপশ্রী মজুমদার বলছেন, “সার্কেল ইন্সপেকটর অফ স্কুলসের নির্দেশ পেয়েই আমরা স্কুলে পিএম পোষণের কমিটি তৈরি করেছি ৷ এই কমিটিতে আমরা অভিভাবক প্রতিনিধিদের রেখেছি ৷ আমরা চাই, তাঁরা প্রতিদিন টিফিনের সময় স্কুলে আসুন ৷ বাচ্চাদের জন্য তৈরি খাবার দেখাশোনা করুন ৷ কোনও পরামর্শ থাকলে দিন ৷ কারণ, তাঁদের এবং আমাদের মেয়েরাই এই খাবার খাবে ৷ টাকাটা খুব কম হলেও খাবারের গুণগত মান যাতে বজায় রাখতে পারি আমরা তার চেষ্টা করব ৷ আমরা ইতিমধ্যে শিক্ষিকাদের একটি কমিটি তৈরি করেছি ৷
এতদিন পুরসভার মাধ্যমে মিড ডে মিল পরিচালিত হতো ৷ কিন্তু এখন শিক্ষিকারা এর পরিচালনা করায় অনেক সুবিধে বলে মনে হচ্ছে ৷ আমরা চাইছি, সব মেয়েরাই এই খাবার খাক ৷ এর জন্য অবশ্য অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে ৷ আমরা খাবার খেয়ে দেখেছি, রান্না খুব ভালো হচ্ছে ৷ পিএম পোষণের মেনু ঠিক করা থাকে ৷ তার বাইরে আরও কিছু বাচ্চাদের খাওয়ানো যায় কি না সেটা আলোচনা করে দেখব ৷” শহরের আরেক স্কুল, মালদা সিসি গার্লস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মৌমিতা প্রামাণিক বলেন, “পিএম পোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে আমরা নিজেরা পেয়েছি ৷ এতে আমরা খুব খুশি ৷ এর মধ্যে অভিভাবকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৷ দিদিমণি এবং অভিভাবকরা একসঙ্গে এই প্রকল্প চালাবেন ৷
আশা করি এতে খাবারের গুণগত মান আমরা আরও ভালো করতে পারব ৷ বাচ্চারাও নিশ্চিতভাবে খুব ভালোভাবে খাবে ৷ এর আগে মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে আমরা দেখাশোনাটা হয়তো করেছি, কিন্তু সব কিছু আমাদের হাতে ছিল না ৷ তখন সবটা পুরসভার মাধ্যমেই চলত ৷ নতুন পদ্ধতিতে খাবারের গুণগত মানও বাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে ৷ পিএম পোষণে খাবারের চার্ট নিশ্চয়ই আছে ৷ কিন্তু তার বাইরে গিয়েও বাচ্চাদের জন্য কিছু নতুন পদের আয়োজন করা যেতে পারে ৷ ভিন্ন ধরনের খাবার ওদেরও ভালো লাগবে ৷”