Siliguri
সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাবে এই ঘটনা। এক টোলকর্মীকে ধরে গাড়ির বাইরে ঝুলিয়ে বেপরোয়া ভাবে ১২ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেলেন চালক! শেষমেষ এক যুবকের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পেলেন ওই টোলকর্মী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে শিলিগুড়ি মহকুমার ঘোষপুকুর টোলপ্লাজ়ায়। অসম নম্বরের একটি গাড়ির সঙ্গে প্রথমে ওই টোলকর্মী রাকেশ সিংয়ের বচসা বাধে। অভিযোগ, কথা কাটাকাটি চলাকালীন আচমকা গাড়ির ভিতর থেকে তাঁর হাত ধরে ফেলেন এক ব্যক্তি। সেই অবস্থাতেই চালক গাড়ি চালানো শুরু করে দেন। গাড়িটি শিলিগুড়ির দিকে যাচ্ছিল।
ঘটনাচক্রে সেই সময়ে ইসলামপুরের বাসিন্দা মহম্মদ বাবলু এক রোগীকে নিয়ে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘোষপুকুর টোলপ্লাজ়া পেরিয়ে কিছুটা এগিয়ে বাবলু ওই গাড়িতে টোলকর্মীকে ঝুলতে দেখেন। দূর থেকে দেখে ইসলামপুরের বাসিন্দা আন্দাজ করেন, কিছু একটা ঘটেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ির পিছু নেন বাবলু। পাশাপাশি নিজের মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, গাড়ির চালক একের পর এক লরিকে ওভারটেক করতে করতে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
এ ভাবেই প্রায় ১২ কিলোমিটার ধাওয়া করার পরে ফুলবাড়ি টোলপ্লাজ়ার আগে বাবলু এবং অন্য গাড়ির চালকরা ওই গাড়িটিকে থামাতে সক্ষম হন। ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা রাকেশকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। খবর দেওয়া হয় নিউ জলপাইগুড়ি থানায়। পুলিশ এসে ওই গাড়ির চালক-সহ গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বাবলু বলেন, ‘আমরা কিছুটা দূরত্ব রেখে ওই গাড়ির পিছু ধাওয়া করেছিলাম। কারণ, গাড়ির চালক যদি টোলকর্মীকে রাস্তায় ফেলে দিতেন, তা হলে আমাদের গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ফুলবাড়ি টোলপ্লাজ়ার কিছুটা আগে লরির জ্যাম থাকায় ওই গাড়িটি স্লো হয়ে যায়। তখনই আমরা গাড়িটিকে আটকে দিই। আমি পুলিশকে গোটা ঘটনাটা জানিয়েছি। ভিডিয়ো ফুটেজও দিয়েছি পুলিশকে।’ আক্রান্ত টোলকর্মী বলেন, ‘কথাবার্তা চলাকালীন ওরা আচমকা আমার হাত ধরে ভিতরে টেনে নেন। তার পরে গাড়ি চালানো শুরু করে দেন।’
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই গাড়িতে চালক ছাড়াও একজন মাঝবয়সী, একজন বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন। ছিলেন একজন মহিলা এবং দুই শিশুও। তাঁরা প্রত্যেকে শিলিগুড়ির বাসিন্দা। তাঁরা রায়গঞ্জ থেকে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ না-করায় শনিবার সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর চাউর হতেই ছি ছি পড়ে গিয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সামান্য টোল সংক্রান্ত বিবাদের জেরে এ ভাবে একজন টোলকর্মীর জীবন নিয়ে টানাটানির কোনও মানেই হয় না। এ দিকে, বাবলুর উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন বহু মানুষ।