রেলে কড়াকড়ি বাড়াল কেন্দ্র! অনুমতি ছাড়া হকারি, ভিক্ষা ও ধূমপানে মোটা জরিমানা, বারবার অপরাধে হতে পারে জেল
ভারতীয় রেলওয়ে জন বিশ্বাস (বিধান সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর অধীনে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এই নতুন বিধানের ফলে ট্রেন এবং রেল চত্বরে অনুমতিবিহীন হকারি, ভিক্ষাবৃত্তি ও ধূমপানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেলের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেলের বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ট্রেন বা স্টেশন চত্বরে কোনও ধরনের পণ্য বিক্রি করা যাবে না। একইভাবে ট্রেন বা রেল চত্বরে ভিক্ষাবৃত্তিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে বা অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালত প্রয়োজনে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় শাস্তির নির্দেশ দিতে পারে।
এতেই শেষ নয়, একই অপরাধ বারবার করলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। কোনও ব্যক্তি চারবার বা তার বেশি অনুমতিবিহীন হকারির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে রেলের এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হকারদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
অন্যদিকে, ধূমপান সংক্রান্ত নিয়মও আরও কড়া করা হয়েছে। ট্রেনের ভিতরে এবং নির্ধারিত রেল চত্বরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ধূমপান করতে ধরা পড়লে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া, টিকিট বা পাস বাজেয়াপ্ত করা এবং জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে আদালতে হাজির করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রেলের বক্তব্য, কঠোর জরিমানার মাধ্যমে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা কমবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে উদ্বেগে রয়েছেন বহু হকার। রাজ্যের বিভিন্ন ট্রেনে প্রায় এক লক্ষ মানুষ হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই নিয়ম কার্যকর হলে আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই হকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জীবিকা রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।