গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। মাদ্রাজ হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়ে রাজ্য সরকার দাবি করেছে, এই রায় আইনগতভাবে স্ববিরোধী এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে এই বিতর্ক এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসে মাদ্রাজ হাই কোর্ট রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। আদালত ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে জানায়, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, গবাদি পশুর সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ওই আদেশ বাস্তবায়ন করা জরুরি। আদালতের মতে, গবাদি পশু রক্ষা কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
হাই কোর্টের এই নির্দেশের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশে একাধিক আইনি অসঙ্গতি রয়েছে এবং তা কার্যকর হলে বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই হাই কোর্টের রায়ের ওপর পুনর্বিবেচনা চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্রপাত হয় কোয়েম্বত্তূরের বাসিন্দা কে. সূর্য প্রশান্তের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলাকে কেন্দ্র করে। গত মে মাসে তিনি জনসমক্ষে গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টে আবেদন করেন। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণের অবসরকালীন বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অতিরিক্ত ডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-কে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার আদেশ দেয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, ভারতের সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদে গবাদি পশু সংরক্ষণের বিষয়ে রাজ্যকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশমূলক নীতি রয়েছে। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, গোহত্যা কোনও বাধ্যতামূলক ধর্মীয় রীতি নয়। আদালতের এই পর্যবেক্ষণও মামলাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞা জারির আগে তামিলনাড়ু প্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮ অনুযায়ী শুধুমাত্র ১০ বছরের বেশি বয়সি অথবা প্রজনন ও কৃষিকাজের জন্য স্থায়ীভাবে অনুপযুক্ত, অসুস্থ বা কর্মক্ষমতা হারানো গবাদি পশুদের নির্দিষ্ট জবাইখানায় জবাইয়ের অনুমতি ছিল। সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু সরকারের আবেদনের পর এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর রয়েছে।