প্রতিদিন ভারতীয় রেলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী একা অথবা শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনে ভ্রমণ করেন। যাত্রাপথে কখনও টিকিট হারিয়ে যাওয়া, মোবাইলে সংরক্ষিত ই-টিকিট দেখাতে না পারা বা অন্য কোনো কারণে টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে এমন পরিস্থিতিতে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় রেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা রয়েছে।
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে একা বা শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী কোনো নারী যাত্রীর কাছে বৈধ টিকিট না থাকলেও তাঁকে মাঝপথে বা কোনো নির্জন, ছোট কিংবা অপরিচিত স্টেশনে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো রাতের অন্ধকারে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা।
এমন পরিস্থিতিতে টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) যাত্রীর বক্তব্য শুনে রেলওয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা ধার্য করতে পারেন এবং প্রয়োজনে নতুন টিকিট ইস্যু করতে পারেন। যদি সংশ্লিষ্ট নারী যাত্রীর কাছে সেই মুহূর্তে জরিমানা দেওয়ার মতো অর্থ না থাকে, তাহলেও তাঁকে রাতের বেলা ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নিরাপদে যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি রেলের সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম বা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় নথিভুক্ত করা হয়, যাতে নিয়মের অপব্যবহার না হয়।
অন্যদিকে, কোনো নারী যাত্রী যদি ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, অন্য যাত্রীদের অসুবিধার কারণ হন বা সন্দেহজনক আচরণ করেন, তাহলে রেল কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে সেই ক্ষেত্রেও রাতের বেলা তাঁকে ট্রেন থেকে নামানো হয় না। প্রয়োজনে দিনের আলোতে কোনো বড় স্টেশন বা জংশনে, রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) মহিলা কর্মীর উপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভারতীয় রেলের এই ব্যবস্থা অবৈধভাবে টিকিট ছাড়া ভ্রমণকে উৎসাহিত করার জন্য নয়। বরং জরুরি, অনাকাঙ্ক্ষিত বা অসহায় পরিস্থিতিতে পড়া নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য। তাই একা ভ্রমণকারী নারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ যাত্রীদের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রয়োজনে এই তথ্য অন্যদের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া উচিত, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে কেউ অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারেন।