বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বৃহস্পতিবার টরন্টোয় মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া।তবে এই ম্যাচ শুধু শেষ ষোলোর লড়াই নয়,এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ, স্মৃতি এবং দুই কিংবদন্তির ভবিষ্যৎ।ইউরোপীয় সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে ৩ জুলাই,যে দিনটি পর্তুগিজ ফুটবলের কাছে গভীর শোকের।ঠিক এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার দিয়েগো জোটা।মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ এখনও নাড়া দেয় গোটা ফুটবল বিশ্বকে। তাই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে জোটার স্মৃতিকে সঙ্গী করেই মাঠে নামছে পর্তুগাল।ফিফার অনুমোদিত ২৬ জনের স্কোয়াডের পাশাপাশি প্রতীকীভাবে তাঁকে দলের ২৭তম সদস্য হিসেবে ধরা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী লুই মন্টেনেগ্রোর দেওয়া বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরে খেলছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা।কোচ রবার্তো মার্টিনেজ থেকে শুরু করে দলের প্রত্যেকেই জানিয়েছেন,জোটার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জয় তুলে আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এই ম্যাচের আরও একটি বড় আকর্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লুকা মদ্রিচের সম্ভাব্য শেষ আন্তর্জাতিক মুখোমুখি।দুই কিংবদন্তিই চল্লিশের কোঠায় পৌঁছে গিয়েছেন।ফলে হারলেই শেষ হয়ে যেতে পারে তাঁদের বিশ্বকাপ অভিযান,এমনকি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে দীর্ঘদিন একসঙ্গে অসংখ্য ট্রফি জেতা এই দুই বন্ধু এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছেন। পর্তুগালের মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা মদ্রিচকে নতুন প্রজন্মের জন্য আদর্শ বলে উল্লেখ করেছেন।তিনি জানান, একবার রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে খেলার পর মদ্রিচের জার্সি সংগ্রহ করা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।তাই এই ম্যাচ শুধু নকআউট নয়,দুই কিংবদন্তির বন্ধুত্ব ও সম্মানের লড়াই হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে,ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে পর্তুগাল।তবে এবারের বিশ্বকাপে দুই দলই এখনও নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজছে।গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল যেমন প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি,তেমনই ক্রোয়েশিয়াও হোঁচট খেয়েছে।তবু জোয়াও ফেলিক্সের বিশ্বাস,নকআউট পর্বে অতীতের সব হিসাব মুছে যায় এবং নতুন লড়াই শুরু হয়।অন্যদিকে কোচ জ্লাটকো দালিচও জানিয়েছেন, নকআউটে ওঠাই ছিল প্রথম লক্ষ্য,এবার আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চান তাঁরা।আবেগ,ইতিহাস,বন্ধুত্ব এবং বাঁচা-মরার লড়াই— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীক্ষিত ম্যাচ হতে চলেছে পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া।