Udayanarayanpur
হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট (WB Election 2026) দিতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সিসিটিভি ফুটেজ ও লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে কমিশন সাফ জানিয়ে দিল, ওই বৃদ্ধের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনো ভূমিকা ছিল না। একইসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) করা অভিযোগকে ‘ভুল তথ্য’ বা ‘মিসইনফরমেশন’ হিসেবে দেগে দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের প্রকাশ করা বুথের ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ৮২ বছর বয়সি বৃদ্ধ পূর্ণচন্দ্র দলুই তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে বুথে ঢুকেছিলেন। আঙুলে কালি লাগানোর পর তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে ইভিএম-এর (EVM) দিকে এগিয়ে যান। তাঁর শারীরিক সমস্যা হচ্ছে বুঝতে পেরে তাঁর পুত্র ইভিএম-এর সামনে গিয়ে তাঁকে ভোটদানে সাহায্য করেন। এর কিছুক্ষণ পরই আচমকা সেখানে পড়ে যান ওই বৃদ্ধ। ভোটকর্মী ও তাঁর ছেলে তাঁকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে যান। ঘটনার দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই বৃদ্ধ ও তাঁর পুত্রকে ধাক্কা দিয়েছে এবং দুর্ব্যবহার করেছে।
তিনি জওয়ানদের ‘বাইরে থেকে আসা জল্লাদ’ বলে উল্লেখ করে ২০২১ সালের শীতলকুচি ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা করেন। শুক্রবার কমিশন অভিষেকের সেই পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরে জানায়, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্ণচন্দ্র দলুই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং অসহ্য গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি বা কাউকে ধাক্কা দেয়নি। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে জওয়ানরা নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা দুর্ভাগ্যজনক। গণতন্ত্র সত্যের ওপর ভিত্তি করে চলে, ভয়ের ওপর নয়। সাধারণ পর্যবেক্ষকের বয়ান অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধকে আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করা এবং পরিবারের যন্ত্রণা বাড়িয়ে তোলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে কমিশন। যদিও এই সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের তরফে কমিশনের এই পাল্টা বিবৃতির প্রেক্ষিতে এখনও কোনো নতুন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।