ডিমের দামে আগুন, চাপে সাধারণ মানুষ! ১০ দিনে ট্রে-পিছু দাম বেড়েছে ২০ টাকা
রাজ্যে ফের অগ্নিমূল্য ডিমের বাজার। গত ১০ দিনে লাগাতার দাম বৃদ্ধির জেরে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের তালিকায় থাকা ডিম এখন অনেক পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। খুচরো বাজারে বর্তমানে একটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৮ টাকা, ফলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিন আগে পাইকারি বাজারে ৩০টি ডিমের একটি ট্রের দাম ছিল ১৮৬ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ২০৬ টাকা। অর্থাৎ অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রে-পিছু দাম বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। খুচরো বাজারে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে একটি ট্রের দাম পৌঁছে গিয়েছে ২২০ থেকে ২২৫ টাকায়। অন্যদিকে পাড়ার ছোট দোকানগুলিতে এক জোড়া ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা।
ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাদের দিকে ডিম নিক্ষেপের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই কারণেই অনেকের ধারণা, ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে প্রভাব পড়ছে এবং তার ফলেই দাম বাড়ছে। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশন।
ফেডারেশনের সভাপতি মদন মাইতির বক্তব্য, ডিমের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, মূল কারণ হলো উৎপাদন খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। তিনি জানান, গত এক মাসে পোল্ট্রি খাদ্যের কাঁচামালের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমের কারণে ডিম উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
মদন মাইতি আরও বলেন, রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। সেই তুলনায় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ডিম ব্যবহারের কারণে বাজারদরে কোনও প্রভাব পড়ার প্রশ্নই ওঠে না। কৃষকদের লোকসান রুখতে বর্তমান বাজারদর প্রয়োজনীয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ফলে ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, আপাতত ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। এর ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে আরও চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।