দাম কমতেই সোনা বিক্রিতে হিড়িক! ৩ মাসে বিক্রি ৫০ টন পুরনো সোনা, চাঙ্গা রিসাইক্লিং শিল্প
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পর সোনার দামে কিছুটা সংশোধন দেখা দিতেই দেশজুড়ে বেড়েছে পুরনো সোনা বিক্রির প্রবণতা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে সোনার দাম আরও কমতে পারে— এমন আশঙ্কাতেই অনেকেই এখন পুরনো গয়না বিক্রি করে লাভ তুলে নিতে চাইছেন। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ আসছে, অন্যদিকে দেশের সংগঠিত গোল্ড রিসাইক্লিং শিল্পও নতুন গতি পাচ্ছে।
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইবিজেএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন— এই তিন মাসে ভারতীয় পরিবারগুলি প্রায় ৫০ টন পুরনো সোনা বিক্রি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। শিল্পমহলের মতে, সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই পুরনো গয়না বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা, মার্কিন সুদের হার নিয়ে জল্পনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে সংশোধনের প্রভাবেই এই প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। সেই কারণেই বহু পরিবার এখনই অব্যবহৃত বা পুরনো গয়না বিক্রি করে নগদ অর্থ হাতে তুলে নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে দেশের সংগঠিত গোল্ড রিসাইক্লিং শিল্প। দীর্ঘদিন লকারে পড়ে থাকা পুরনো গয়নাগুলি সংগ্রহ করে সেগুলি পরিশোধন করে বিশুদ্ধ সোনায় রূপান্তর করা হচ্ছে। পরে সেই সোনা আবার গয়না প্রস্তুতকারকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে নতুন সোনা আমদানির উপর কিছুটা নির্ভরতাও কমছে।
মুথুট এক্সিম জানিয়েছে, তাদের ১০০-রও বেশি গোল্ড পয়েন্টে পুরনো সোনা জমা পড়ার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পমহলের অনুমান, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে পুনর্ব্যবহৃত সোনার পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ টনে পৌঁছতে পারে।
তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সোনার দামের ওঠানামা দেখে গয়না বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনা এখনও অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।