Kalyan Banerjee
সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। বৃহস্পতিবার কল্যাণের পরিবর্তে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। বিচারপতি কৌশিক চন্দের নির্দেশ, বৃহস্পতিবারই সিআইডি-র তলবে সাড়া দিয়ে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। দু’সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই সময়ের মধ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে নাগাদ দিল্লি থেকে ফিরছেন অভিষেক। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে সিআইডি দফতর ভবানী ভবনে হাজির হতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে পদক্ষেপ করতে পারবে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানির আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে অভিষেকের এই মামলায় আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করার কথা ছিল কল্যাণের। কিন্তু শুনানির আগে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ।
এই মামলায় অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অয়ন ভট্টাচার্য। শুধু কল্যাণ নন, কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য জুনিয়র আইনজীবীরাও মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! কাল (বুধবার) আমি ওর মামলার কথা আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে সিআইডি-র যাওয়ার বিষয়টিও তুললাম। অভিষেকের মামলাটা কোনও কারণে কাল কোর্ট শোনেনি।
আমরা বিচারপতি কৌশিক চন্দকে বলি, এটা জরুরি ভিত্তিতে শুনুন। আজ শুনানি হত।” তার পরেই কল্যাণের সংযোজন, “কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। আমি বলে দিয়েছি এর (অভিষেক) সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।” একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তার পরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।”