নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে শনিবার সকালে বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানা-সহ কলকাতার মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভবানীপুরে তাঁর বাসভবনেও পৌঁছান ইডি আধিকারিকরা এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে সূত্রের খবর।
ইডির দাবি, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের ঘটনায় মদন মিত্রের সরাসরি ভূমিকা থাকতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, অন্তত ১২৫ জনের অবৈধ নিয়োগের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ, নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হত। এই ঘুষ সংগ্রহের কাজ করত একাধিক মিডলম্যান বা দালাল। ইডি সূত্রে আরও দাবি, কিছু ক্ষেত্রে নগদের পরিবর্তে সোনাও ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল।
এই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তির নাম। ২০২৩ সালের ২০ মার্চ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের সাতটি পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রুপ-ডি কর্মী, টাইপিস্ট-সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষার ওএমআর শিট ছাপানো থেকে শুরু করে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থাও করত ওই সংস্থা। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া একটি রহস্যময় ডায়েরি। সেখানে ‘MM’ নামে একটি উল্লেখ পাওয়া যায়। ইডির অনুমান, ওই ‘MM’ আসলে মদন মিত্র। তদন্তকারীদের দাবি, সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানেও তিনি নিজেকে ‘MM’ নামে পরিচয় দিতেন।
- এই সমস্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই শনিবার মদন মিত্রের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। বেআইনি নিয়োগ, ঘুষ লেনদেন এবং অয়ন শীলের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।