চারধাম যাত্রায় রেকর্ড ভিড়, তিন মাসে মৃত্যু ১৯৮ পুণ্যার্থীর; স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক প্রশাসন
উত্তরাখণ্ডের পবিত্র চারধাম যাত্রায় এ বছর একদিকে যেমন রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে, অন্যদিকে তেমনি উদ্বেগ বাড়িয়েছে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ১৯৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত কারণে, যা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, চারধাম যাত্রার পথ অত্যন্ত দুর্গম ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘ সময় ধরে খাড়া পাহাড়ি পথে হাঁটা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং পূর্ব থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৯৫ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে কেদারনাথে। এছাড়া বদ্রীনাথে ৫৯ জন, যমুনোত্রীতে ২৬ জন এবং গঙ্গোত্রীতে ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে। যাত্রায় অংশ নেওয়ার আগে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা এবং শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জলপান এবং ধীরে ধীরে উচ্চতায় ওঠার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
তবে এসব সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ভক্তদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি। চলতি বছরের ১৮ জুন পর্যন্ত ৩৭ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী চারধাম দর্শন করেছেন, যা স্থানীয় প্রশাসনের মতে একটি নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে কেদারনাথে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ, বদ্রীনাথে সাড়ে ১১ লক্ষ, গঙ্গোত্রীতে ৬.১৭ লক্ষ এবং যমুনোত্রীতে প্রায় ৬ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে। এছাড়াও হেমকুণ্ড সাহিবে এক লক্ষের বেশি ভক্ত দর্শনে গিয়েছেন।
প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে শুরু হয়ে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত চলা চারধাম যাত্রা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রা। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যমুনোত্রী থেকে শুরু হয়ে গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ এবং শেষে বদ্রীনাথে গিয়ে সম্পন্ন হয় এই পবিত্র পরিক্রমা। এবার রেকর্ড সংখ্যক ভক্তের সমাগম যেমন নতুন নজির গড়েছে, তেমনি মৃত্যুর বাড়তে থাকা সংখ্যাও নিরাপদ তীর্থযাত্রার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।