টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবার নতুন পরিচয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজকের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ *‘তারকাটা’*-র মাধ্যমে।এই নতুন যাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিক্রম জানান,প্রযোজকের কাজ তাঁকে সিনেমা নির্মাণের এক ভিন্ন জগৎ চিনিয়েছে।এতদিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করলেও,এবার তিনি বুঝতে পেরেছেন একটি প্রজেক্ট সফল করতে পর্দার আড়ালে কত পরিশ্রম করতে হয়।প্রযোজনা করতে গিয়ে নানা নতুন বিষয় শিখছেন তিনি,আর সেই কারণেই প্রযোজকদের প্রতি তাঁর সম্মান ও সহানুভূতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাঁর মতে,এই দায়িত্ব যতটা রোমাঞ্চকর,ততটাই কঠিন এবং চ্যালেঞ্জে ভরা।
কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন বিক্রম।জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে যে বিপদের সময় খুব কম মানুষই পাশে থাকে। তাই বাবা-মা,বোন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের তিনি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন।অবসর সময়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো,বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া এবং পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়াই তাঁর প্রিয়।বিশেষ করে পাহাড়ের প্রতি তাঁর টান অনেক বেশি।বিক্রম জানান, পাহাড় তাঁকে জীবনের বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করে এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেয়।গত কয়েক বছর ধরে তিনি একাই বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরতে যান।সেই একাকী ভ্রমণ তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফিরতে সাহায্য করে।
ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেম নিয়েও খোলামেলা ছিলেন অভিনেতা।তিনি বিশ্বাস করেন,ভালোবাসা মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,তবে সেটাকে জোর করে খুঁজে পাওয়া যায় না।সঠিক মানুষ এলে সম্পর্ক নিজে থেকেই তৈরি হয়। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন,জীবনের দীর্ঘ পথচলায় একজন সঙ্গীর উপস্থিতি বিশেষ মূল্যবান।নতুন সিরিজ *‘তারকাটা’* নিয়েও আশাবাদী বিক্রম।তাঁর কথায়,এটি প্রতিশোধ ও আবেগের মিশেলে তৈরি এক ভিন্নধর্মী গল্প,যা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।পাশাপাশি টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি আশাবাদী।জীবনের নানা উত্থান-পতন তাঁকে বদলে দিলেও,পরিবার,বন্ধু এবং কাজকেই তিনি এখনও নিজের সবচেয়ে বড় ভরসা বলে মনে করেন।