মহুয়ার ‘টাকার ডিল’ অভিযোগে পাল্টা আক্রমণ শতাব্দী, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কাকলির
তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা ৪ কোটি টাকা করে পেয়েছেন এবং আগামী ৩৬ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ১ কোটি টাকা করে পাবেন। মহুয়ার এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
মহুয়ার এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনও প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ করা উচিত নয়। শতাব্দীর দাবি, মহুয়া মৈত্রকে একদিন না একদিন তাঁর বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ দিতেই হবে। একই সঙ্গে তিনি মহুয়ার অতীতের বিতর্কিত ঘটনাও তুলে ধরেন। শতাব্দী বলেন, ঘুষ ও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে একসময় মহুয়া মৈত্র নিজেই বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন এবং সেই ঘটনার কথা দেশের মানুষ জানেন।
শুধু শতাব্দী রায় নন, মহুয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। তিনি জানিয়েছেন, মহুয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। কাকলির বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনতে হলে তার পক্ষে যথাযথ প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় তা মানহানিকর বলে বিবেচিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, তিনি তাঁর সংসদীয় লগ-ইন তথ্য ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন। সেই বিতর্কের জেরে তাঁকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। যদিও মহুয়া সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
এদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে মহুয়ার সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনায় আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও জোরদার হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।