পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে একাধিক ইতিবাচক মন্তব্য করে তিনি নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছেন। মহুয়ার বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা হলেও ব্যক্তিগত স্তরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো ছিল এবং অতীতে তিনি তাঁর কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে মহুয়া মৈত্র স্মৃতিচারণ করে জানান, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি টিকিট না পেয়ে অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে মানসিকভাবে সমর্থন করেছিলেন এবং ভেঙে না পড়ে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। মহুয়ার দাবি, সেই সহযোগিতার কথা তিনি আজও ভোলেননি।
এছাড়াও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করিমপুর কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রার্থী হওয়ার সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মহুয়ার কথায়, তখন তিনি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন মুখ ছিলেন। দলের অনেক সিনিয়র নেতা তাঁর প্রচারে এগিয়ে না এলেও শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি তাঁর প্রথম নির্বাচনী জনসভাতেও শুভেন্দু উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা। রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে আগের মতো যোগাযোগ না থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি এখনও অটুট রয়েছে বলে জানান মহুয়া। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও একজন মানুষের ভালো কাজ বা সাহায্যকে অস্বীকার করা যায় না।
সাক্ষাৎকারে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মহুয়া। তাঁর মতে, দলের কিছু দুর্বলতা এবং অযোগ্য নেতৃত্বকে দীর্ঘদিন গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিজেপির সংগঠন ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতিরও প্রশংসা করেন। মহুয়ার এই মন্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য প্রশংসা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।