তৃণমূল কংগ্রেসে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের আবহে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অতীতে কে কতদিন ধরে তৃণমূল করেছে, তা এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, আজ যারা দলের পাশে থেকে লড়াই করছেন, তারাই প্রকৃত তৃণমূল সৈনিক এবং তাঁদের হাত ধরেই নতুন করে দলের ইতিহাস লেখা হবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মহুয়া। তিনি বলেন, “২০২৯ সালে ভগবানও আর নরেন্দ্র মোদীকে দিল্লির ক্ষমতায় ফেরাতে পারবেন না। বিজেপি দিল্লির ক্ষমতাকেন্দ্রিক দল। যতদিন কেন্দ্রের ক্ষমতা রয়েছে, ততদিনই তাদের প্রভাব রয়েছে। সেই ক্ষমতা চলে গেলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও বিজেপির দাপট কমে যাবে।”
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মহুয়ার অভিযোগ, কেন্দ্রের ক্ষমতা, অর্থবল এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জোরেই এতদিন বিজেপি নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। তাঁর দাবি, বিজেপির বহু জনপ্রতিনিধি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও দিল্লির ক্ষমতার জোরে রাজ্যে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। একইসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার জোরেই তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় মন্তব্য করতেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মহুয়া স্পষ্ট বার্তা দেন, ভয় পেলে চলবে না। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলা বা আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কায় পিছিয়ে গেলে রাজনৈতিক লড়াই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “দিদির সৈনিক হলে মামলা খেতেই হবে। এক মাস জেলে গেলে কেউ মরে যায় না। আমাদের অনেক নেতা-কর্মী জেলে গিয়ে আবার জামিনে ফিরে এসেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও মানুষ দেশের জন্য জেল খেটেছেন। তাই ভয় ভেঙে রাস্তায় নেমে দলের জন্য লড়াই করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, যারা এতদিন ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেছেন, তাঁদের এখন দলের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করার সময় এসেছে। তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের এই পরিস্থিতিতে মহুয়া মৈত্রের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দলীয় কর্মীদের কতটা নতুন উদ্দীপনা জোগাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।