ভারতীয় ফুটবলে ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মোহনবাগান।অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) কাছে ক্লাবটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জমা দিয়েছে।তাদের মূল দাবি, ওসিআই ফুটবলারদের দলে নেওয়া কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়,বরং বিষয়টি ক্লাবগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হোক।একইসঙ্গে,এই ফুটবলারদের যদি ডোমেস্টিক প্লেয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়,তাহলে বিভিন্ন ক্লাব তাঁদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে আরও আগ্রহী হবে বলেও মত দিয়েছে সবুজ-মেরুন শিবির। পাশাপাশি,ওসিআই ফুটবলারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে।মোহনবাগানের মতে,৩৫ বছরের বেশি বয়সি ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করলে এই নীতির মূল উদ্দেশ্য সফল হবে না,তাই অপেক্ষাকৃত কম বয়সিদের সুযোগ দেওয়াই ভবিষ্যতের জন্য বেশি কার্যকর।
স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের পরিকল্পনাই তুলে ধরেছে মোহনবাগান। ক্লাবের প্রস্তাব অনুযায়ী,আগামী কয়েক বছরে ৩০ বছরের কম বয়সি ওসিআই ফুটবলারদের দলে নেওয়া হলে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জার্সিতেও প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।অন্যদিকে,২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে ২৬ বছরের কম বয়সি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের ডোমেস্টিক প্লেয়ার হিসেবে সই করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও,প্রতিটি ক্লাব যাতে দুই থেকে তিনজন ওসিআই ফুটবলারকে দেশীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধন করাতে পারে,সেই অনুমতিও দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে মোহনবাগান।যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এআইএফএফ কোনও নির্দিষ্ট নীতিমালা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করেনি।
এদিকে,সম্প্রতি এআইএফএফের সাধারণ সভায় নতুন মরশুমের আইএসএল ও আই-লিগে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলকে পুরো ম্যাচজুড়ে অন্তত একজন ভারতীয় স্ট্রাইকার খেলাতেই হবে।দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ফুটবলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশীয় স্ট্রাইকারদের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল।বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে,ওসিআই নীতির সঠিক প্রয়োগ এবং ভারতীয় স্ট্রাইকারদের বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ মিললে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দুই-ই বাড়বে।এর ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল মহলের অনেকেই।