৪০ বছর বয়সে অবসর ভেঙে আবারও জার্মানির জার্সি গায়ে মাঠে ফিরেছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার।লক্ষ্য ছিল, নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দুর্দান্ত গোলকিপিং দক্ষতায় দলকে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।২০২৪ ইউরোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও বিশ্বকাপের আগে তাঁকে ফের জাতীয় দলে ডেকে আনে জার্মানি।কারণ,বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তাঁর ধারাবাহিক অসাধারণ পারফরম্যান্স এখনও কোচিং স্টাফের আস্থা অর্জন করেছিল।২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে এবারের স্কোয়াডে ছিলেন নয়্যার।টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউটে জায়গা করে নেওয়ায় জার্মান সমর্থকদের বিশ্বাস ছিল,কিংবদন্তি এই গোলরক্ষকের অভিজ্ঞতাই দলকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে।নয়্যার নিজেও চেয়েছিলেন,দেশের জার্সিতে শেষবারের মতো বিশ্বজয়ের আনন্দ নিয়েই বিদায় জানাতে।
কিন্তু বাস্তবের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় জার্মানির।নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাচ গড়ালে গোটা দলের ভরসা ছিল নয়্যারের উপর। অতীতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ সেভ করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি।কিন্তু এবার আর সেই জাদু দেখা গেল না।প্রতিপক্ষের শট ঠেকিয়ে জার্মানিকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক।বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন,এটাই হবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ টুর্নামেন্ট।তাই বিদায়ের ম্যাচে এমন হতাশাজনক পরাজয় তাঁর এবং জার্মান সমর্থকদের জন্য আরও বেশি কষ্টের হয়ে ওঠে।স্বপ্ন ছিল ট্রফি হাতে বিদায় নেওয়ার,কিন্তু শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হলো তাঁকে।
তবে হতাশার মাঝেও গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড। জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব এখন এককভাবে ম্যানুয়েল নয়্যারের দখলে।দেশের হয়ে বিশ্বকাপে মোট ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে নয়্যার বলেন,“সবকিছু এভাবে শেষ হবে,সত্যিই খুব খারাপ লাগছে।” ট্রফি জিততে না পারলেও আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জার্মানির শেষ প্রহরী হিসেবে তিনি অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।জাতীয় দলের জার্সি তুলে রেখে এবার শেষ হলো এক বর্ণময় আন্তর্জাতিক অধ্যায়।