চলতি বিশ্বকাপে বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা,তা যেন আবারও প্রমাণ করে চলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি।নিজের অর্ধেক বয়সি তারকাদের সঙ্গে শুধু প্রতিযোগিতাই করছেন না,বরং পারফরম্যান্সে তাঁদেরও ছাপিয়ে যাচ্ছেন।টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক ৬টি গোল করে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তিনি।তাঁর পিছনে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে,আর্লিং হালান্ড এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র,যাঁদের প্রত্যেকের ঝুলিতে রয়েছে ৪টি করে গোল।অন্যদিকে পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো করেছেন ২ গোল।তবে শুধু গোলের পরিসংখ্যান নয়,ম্যাচে একজন ফুটবলারের সার্বিক অবদানকেই এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ফিফা।সেই কারণেই সদ্য চালু হওয়া ফিফার লাইভ ‘পাওয়ার র্যাঙ্কিং’-এ এক নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি,আর রোনাল্ডো নেমে গিয়েছেন ৭৪তম স্থানে।এই র্যাঙ্কিং প্রকাশের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
ফিফার এই বিশেষ র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিটি ম্যাচের পর ফুটবলারদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—আক্রমণ, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণে অবদান—আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রেও গোল বাঁচানোর দক্ষতা, পজিশনিং ও ম্যাচে প্রভাবের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হচ্ছে। মেসি আক্রমণে পেয়েছেন ৮.৪৯,সৃজনশীলতায় ৬.৫৫ এবং রক্ষণে ৫.১৭ পয়েন্ট।সব মিলিয়ে তাঁর মোট স্কোর ২০.২১।যদিও এমবাপের মোট স্কোর ২০.২৫,তবুও আক্রমণাত্মক সূচকে মেসি এগিয়ে থাকায় তিনিই শীর্ষস্থান দখল করেছেন।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির ডেনিজ উন্ডাভ।এছাড়া সেরা দশে জায়গা পেয়েছেন জোহান মানজাম্বি,উসমান দেম্বেলে,ভিনিসিয়াস জুনিয়র, আর্লিং হালান্ড,ইলিজা জাস্ট,ক্রিসেন্সিয়ো সামারভিল এবং রুবেন ভারগাস।
অন্যদিকে রোনাল্ডো আক্রমণে ৫.৮২, সৃজনশীলতায় ৫.০৬ এবং রক্ষণে ৪.৭৭ পয়েন্ট পেয়ে মোট ১৫.৬৫ স্কোর অর্জন করেছেন।একটি ম্যাচে জোড়া গোল করলেও বাকি দুই ম্যাচে তাঁর সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আর সেই কারণেই পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন।তবে এই তালিকা স্থায়ী নয়।প্রতিটি ম্যাচের পর নতুন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে র্যাঙ্কিং আপডেট করা হচ্ছে।ফলে নকআউট পর্বে যদি রোনাল্ডো ধারাবাহিকভাবে গোল করেন এবং খেলার অন্যান্য দিকেও প্রভাব ফেলতে পারেন,তাহলে খুব দ্রুতই তিনি উপরের দিকে উঠে আসতে পারবেন।একইভাবে মেসির সামনেও চ্যালেঞ্জ থাকবে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রাখার।তাই বিশ্বকাপ যত এগোবে,এই পাওয়ার র্যাঙ্কিং নিয়েও উত্তেজনা ও আলোচনা ততই বাড়বে।