বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে।দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়।আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার পর আর্লিং হালান্ড,মার্টিন ওডেগার্ডদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।তবে জয়ের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে আসে তাদের ম্যাচ-পরবর্তী অভিনব উদযাপন।খেলা শেষ হতেই গোটা দল মাঠে পাশাপাশি বসে নৌকো বাওয়ার ভঙ্গিতে সেলিব্রেশন শুরু করে।গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার সমর্থকও একই তালে যোগ দেন।মুহূর্তের মধ্যেই ‘ভাইকিং রো’ নামে পরিচিত এই উদযাপনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।এরপর থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন,কেন এমনভাবে জয় উদযাপন করলেন নরওয়ের ফুটবলাররা?
আসলে এই উদযাপন শুধুই আনন্দ প্রকাশের একটি ভঙ্গি নয়,বরং নরওয়ের দীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক। সেলিব্রেশনের সময় ফুটবলাররা এক সারিতে বসে পা সামনে ছড়িয়ে রাখেন।এরপর ড্রামের নির্দিষ্ট ছন্দে দু’বার শব্দ হওয়ার পর সবাই একসঙ্গে ‘রো’ বলে চিৎকার করেন এবং নৌকো বাওয়ার মতো হাত ও শরীর পিছনের দিকে টানেন।এই দৃশ্য ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রার স্মৃতিকে তুলে ধরে।অষ্টম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে ভাইকিংরা বিশাল জাহাজে চড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিযান চালাতেন এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নতুন অঞ্চল আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।ইতিহাসবিদদের মতে, আধুনিক নরওয়ের পরিচয় গড়ে ওঠার পেছনেও তাঁদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।সেই গৌরবময় ঐতিহ্যকেই ফুটবল মাঠে নতুনভাবে তুলে ধরছেন হালান্ডরা।
তবে ‘ভাইকিং রো’ সেলিব্রেশনের ফুটবল-ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়।মাত্র চার মাস আগে, মার্চ মাসে, নরওয়ের সমর্থক ওলে ফ্রয়স্টাডের উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথম এই উদযাপন দেখা যায়।এরপর থেকে জাতীয় দলের প্রতিটি বড় জয়ের সঙ্গেই এটি যেন এক নতুন পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।বিশ্বকাপে সেনেগালকে হারানোর পরও একইভাবে উদযাপন করেছিলেন নরওয়ের ফুটবলাররা।এবার আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধেও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। আগামী ৬ জুলাই ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর কঠিন লড়াইয়ে নামবে নরওয়ে।সেই ম্যাচে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে আবারও কি বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে বহুচর্চিত ‘ভাইকিং রো’ সেলিব্রেশন? এখন সেই অপেক্ষাতেই ফুটবলপ্রেমীরা।