বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর এবং ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদির সম্পর্ক আজও ভালোবাসার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।১৯৬৮ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও,তার আগে একে অপরকে আরও ভালোভাবে জানার জন্য কিছুদিন একসঙ্গে থাকতেন।সম্প্রতি সাংবাদিক বরখা দত্তের‘মোজো স্টোরি’ অনুষ্ঠানে শর্মিলা নিজেই সেই সময়ের নানা অজানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন।তিনি জানান,অভিনয় এবং ক্রিকেট—দু’জনেরই ব্যস্ত কেরিয়ারের কারণে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ ছিল না।তাই সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য তাঁরা লিভ-ইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।অভিনেত্রী মজার ছলে বলেন,তখন তিনি সংসারের কাজকর্মে একেবারেই অনভিজ্ঞ ছিলেন।ফলে অনেক সময় পতৌদিকে ক্রিকেট ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় গিয়ে স্নান সেরে নিতে হতো।তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংসার সামলানো শিখে যান এবং আজ নিজের ঘর নিয়ে গর্ববোধ করেন।
তবে তাঁদের সম্পর্কের পথ মোটেও সহজ ছিল না।ভিন্ন ধর্মের দুই মানুষের বিয়ে সে সময় সমাজের একাংশ ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি।সংবাদমাধ্যমেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা সমালোচনা ও কটাক্ষ চলেছিল। এমনকি অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন,এই বিয়ে ১৫ মাসের বেশি টিকবে না।শর্মিলা জানান,এসবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল তাঁদের দুই পরিবারের ওপর। পরিচালক যশ চোপড়াও তাঁকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘নবাবদের বিশ্বাস করা কঠিন,সাবধানে থেকো।’ শুধু তাই নয়,বিয়ের আগে শর্মিলার বাবা-মায়ের কাছে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উড়ো টেলিগ্রামও পৌঁছেছিল।পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে,শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার স্বার্থে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল।
ছয়ের দশকে এক সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে প্রথম পরিচয় হয়েছিল শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলি খান পতৌদির। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়। শর্মিলার কথায়,এটি প্রথম দেখার প্রেম ছিল না,বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ওপর গড়ে ওঠা এক সম্পর্ক। তাঁর মনে হয়েছিল,পতৌদি কখনও ইচ্ছে করে তাঁকে আঘাত করবেন না।সেই অটুট বিশ্বাসই তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল।সব সমালোচনা,সামাজিক বাধা এবং নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে এই জুটি টানা ৪৩ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন।আজও তাঁদের ভালোবাসার গল্প প্রমাণ করে,সত্যিকারের সম্পর্ক টিকে থাকে আস্থা,সম্মান ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ওপর।