বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের হারানো আধিপত্য ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন।একসময় বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করা ‘লা রোহা’ গত কয়েকটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি। তবে কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তের অধীনে আবারও নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল দলটি।ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নেশনস লিগ জয়ের পর স্পেনকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া।অনেকেই মনে করেছিলেন,বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হবে তারা।কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে স্প্যানিশ শিবির।তুলনায় অনেক দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে মূল্যবান দুই পয়েন্ট হারিয়েছে স্পেন।ফলে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জয় এখন কার্যত অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি চিন্তা বাড়াচ্ছে চোট সমস্যা।দলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম লামিনে ইয়ামাল।বিশ্বকাপ শুরুর আগে পাওয়া চোট থেকে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি স্পেনের এই তরুণ তারকা।কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে মাঠে নামানো হলেও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি।বরং ম্যাচের পর তাঁর চোটের জায়গায় ব্যথা কিছুটা বেড়েছে বলেই খবর।একইসঙ্গে আরেক গুরুত্বপূর্ণ উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। স্পেনের আক্রমণভাগে এই দুই ফুটবলারের গতি,ড্রিবলিং এবং সুযোগ তৈরির ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের অনুপস্থিতিতে শেষ ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগকে অনেকটাই ধারহীন দেখিয়েছে।প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে বারবার সমস্যায় পড়েছেন ফরোয়ার্ডরা।
অন্যদিকে সৌদি আরবকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ফুটবলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়ে তারা নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে।ফলে স্পেনের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।ইয়ামাল নিজেও জানিয়েছেন,তিনি এখনও পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট নন।কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তেও ফিটনেস পরীক্ষার পরই তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।সব মিলিয়ে স্পেনের সামনে একটাই লক্ষ্য—সৌদি আরবকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া এবং নকআউট পর্বের পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।ইয়ামাল খেলুন বা না খেলুন,এই ম্যাচে ভুল করার সুযোগ নেই ‘লা রোহা’র।