FIFA World Cup 2026
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল (Portugal)। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর (DR Congo) বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। তবে সেই সমালোচনার বড় ঝড় আছড়ে পড়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর (Cristiano Ronaldo) সতীর্থদের উপর। অনেক সমর্থকের অভিযোগ, গোটা ম্যাচে রোনাল্দোকে পর্যাপ্ত বল দেওয়া হয়নি এবং আক্রমণের সময় তাঁকে যথেষ্ট কাজে লাগানো হয়নি। ফলে পর্তুগালের হতাশাজনক শুরুর পর রোনাল্দোর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে দলের বাকি ফুটবলারদের ভূমিকাও নিয়ে। এই বিতর্ক আরও বেড়ে যায় রোনাল্দোর বোন কাটিয়া আভেইরোর (Katia Aveiro) একটি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের পর। তিনি সরাসরি কারও নাম না করলেও, পর্তুগালের খেলার ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘হঠাৎ যেন সবাই ভুলে গেল কী ভাবে পাস দিতে হয়, কী ভাবে বল কেড়ে নিতে হয় বা কী ভাবে দ্রুত আক্রমণে উঠতে হয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে শুধু মাঝমাঠে পিছনের দিকে পাস খেলা হয়েছে। সত্যিই খুব অদ্ভুত এক বিশ্বকাপ।’
বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে পর্তুগাল অন্যতম। তাই অনেক পিছিয়ে থাকা ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে এমন ফল মেনে নিতে পারেননি সমর্থকেরা। ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলতে নেমে সবচেয়ে বয়স্ক স্ট্রাইকার হিসেবে নতুন নজির গড়েন রোনাল্দো। কিন্তু ম্যাচে তিনি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেও মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন। এর পর থেকেই কোচ রবার্তো মার্তিনেজ় (Roberto Martinez) এবং দলের কয়েক জন ফুটবলারকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। অনেক রোনাল্দো-সমর্থকের অভিযোগ, দলের আক্রমণে অধিনায়ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ব্রুনো ফার্নান্ডেজ় (Bruno Fernandes), ভিতিনহার (Vitinha), জোয়াও নেভেস (Joao Neves) এবং পেদ্রো নেতোর (Pedro Neto) সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা হাজার হাজার কটূক্তিমূলক মন্তব্যে ভরে গিয়েছে। বিশেষ করে জোয়াও নেভেসকে বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কারণ ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জিততে হলে রোনাল্দোকে দলের অন্য ফুটবলারের মতোই দেখতে হবে, আলাদা ভাবে নয়। পর্তুগালের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এমনও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ খারাপ হতে পারে। যদিও সতীর্থরা ইচ্ছে করে রোনাল্দোকে বল দেননি, এমন অভিযোগ মানতে নারাজ দলের অনেকে।
সমালোচনা শুধু সতীর্থদের ঘিরে নয়, রোনাল্দোর নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসি (Lionel Messi), কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) এবং আর্লিং হল্যান্ড (Erling Haaland) গোল করেছেন। পাশাপাশি ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Junior), ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (Christian Pulisic), ভিক্টর গিয়োকেরেস (Viktor Gyokeres) এবং হ্যারি কেনও (Harry Kane) গোলের দেখা পেয়েছেন। সেখানে রোনাল্দো গোল করতে না পারায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। যদিও তিনি একটি বড় কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথ ভাবে ৬টি বিশ্বকাপে খেলা একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। তবে মেসি যেখানে নিজের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছেন, সেখানে রোনাল্দো ৬৮ ও ৭৩ মিনিটে পাওয়া ২টি ভালো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ৬টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য নজির গড়ার সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে।