Businessman typing on laptop computer keyboard at desk in office.
এআই ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা নরওয়েতে! প্রাথমিক স্কুলে সম্পূর্ণ বন্ধ, ফিরছে কাগজের বই
প্রযুক্তির অতিনির্ভরতা থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নরওয়ে সরকার। সমাজমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ির পর এবার স্কুলশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারেও জারি করা হল কড়া নিয়ন্ত্রণ। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে এআই টুলের ব্যবহার প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের উপর কঠোর নিয়ম আরোপ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গায়ার স্টোয়ার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার শিশুদের শেখার মৌলিক প্রক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখার মতো প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শর্টকাট পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
গত কয়েক বছরে নরওয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারেও নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে এআই ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র শিক্ষকের কঠোর তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরে এআই ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে, ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এআই ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
আগামী আগস্টের শেষের দিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু এআই নিয়ন্ত্রণই নয়, ট্যাবলেটের ব্যবহার কমিয়ে শ্রেণিকক্ষে আবার কাগজের বই ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও করছে নরওয়ে সরকার। বই কেনার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠনের লক্ষ্যে নতুন আইন আনার প্রস্তাবও দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল নরওয়ে। প্রযুক্তির আসক্তি কমিয়ে শিশু ও কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।