দীর্ঘদিন পর আবারও বড়পর্দায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ফিরছেন বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখার্জি।প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তের ‘বরুণবাবুর বন্ধুরা’ ছবির পর তাঁকে আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি।যদিও ছোটপর্দায় তিনি নিয়মিতই দর্শকদের সামনে এসেছেন এবং সম্প্রতি ‘রোশনাই’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এবার পরিচালক শ্যামল বসুর নতুন ছবি ‘দূরত্ব’-এর মাধ্যমে তিনি আবারও সিনেমার পর্দায় ফিরছেন।বহুদিন পর পরিচালনায় ফেরা শ্যামল বসু এই ছবিতে তুলে ধরতে চলেছেন আধুনিক সময়ের এক গভীর মানবিক গল্প,যার কেন্দ্রে রয়েছে মা ও মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন। ইতিমধ্যেই ছবির শুটিং শুরু হয়েছে।
ছবিতে একজন মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন মাধবী মুখার্জি।তাঁর মতে,এই গল্প কেবল একটি পরিবারের নয়, বর্তমান সমাজের অসংখ্য পরিবারের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। সন্তানরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনে কাজের চাপ,দায়িত্ব এবং নতুন সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ফলে অজান্তেই বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো কমে যায়।সেই না-পাওয়া সময় থেকেই জন্ম নেয় মানসিক দূরত্ব।অভিনেত্রী বলেন,অনেক সময় বাবা-মা সন্তানের অপেক্ষায় থাকেন,অথচ ব্যস্ততার কারণে সন্তানরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না।তবে তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের নিজের মতো করে জীবন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে মাধবী জানান,তাঁর দুই মেয়ে এবং দুই জামাই অত্যন্ত যত্নশীল,তাই তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করেন।
এই ছবিতে মাধবী মুখার্জির মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী সঙ্গীতা দাস।তাঁর কথায়,মাধবী মুখার্জির মতো একজন কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। ছবিতে মেয়ের চরিত্রটি মাকে ভালোবাসলেও কর্মব্যস্ততার কারণে তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না।সেই কারণেই সম্পর্কের মধ্যে তৈরি হয় দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি।গল্প যত এগোবে,ততই সামনে আসবে আবেগ,অভিমান এবং সম্পর্কের নানা বাস্তব দিক।শেষ পর্যন্ত মা-মেয়ের এই দূরত্ব ঘুচবে কি না,সেই উত্তর মিলবে ‘দূরত্ব’ ছবির কাহিনিতে।