ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম ফিট এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ তারকা বিরাট কোহলির জীবনযাপন বরাবরই অনুরাগীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।মাঠে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি যে কঠোর নিয়ম মেনে চলেন,তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।তবে আজকের এই স্বাস্থ্যসচেতন বিরাট একসময় ছিলেন সম্পূর্ণ অন্যরকম।মাছ-মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন উত্তর ভারতীয় পদ ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয়।বিশেষ করে ছোলে-ভাটুরে,রাজমা-চাওয়াল এবং নানা ধরনের সমৃদ্ধ খাবার খেতে তিনি খুবই পছন্দ করতেন।কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শরীর ও ফিটনেসকে আরও গুরুত্ব দিতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাসে আনেন বড় পরিবর্তন।সম্প্রতি তারকা রন্ধনশিল্পী অরুণ চৌহান জানিয়েছেন,বর্তমানে বিরাটের খাবারের তালিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত, পরিমিত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক।
অরুণ চৌহানের মতে,ক্রিকেট সফরের সময় হোটেলে থাকাকালীনও বিরাট নিজের পছন্দের খাবার খেতে দ্বিধা করতেন না।কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।তিনি এমন একটি ডায়েট অনুসরণ করেন যেখানে স্বাদের চেয়ে শরীরের প্রয়োজন এবং পুষ্টিগুণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।বর্তমানে তাঁর খাদ্যতালিকায় রয়েছে স্যালাড,অঙ্কুরিত শস্য,লেটুস জাতীয় সবজি,বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর নিরামিষ পদ এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।পনীরের পরিবর্তে তিনি টোফু খেতে বেশি পছন্দ করেন।শুধু আমিষ খাবারই নয়, দুগ্ধজাত অনেক খাবার থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।তাঁর এই খাদ্যাভ্যাসের মূল লক্ষ্য হল শরীরকে সর্বোচ্চ ফিট রাখা,দ্রুত পুনরুদ্ধার ক্ষমতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া।
এই জীবনধারার পরিবর্তনের পেছনে স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার প্রভাবও কম নয়।২০১৫ সালে অনুষ্কা প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে নিরামিষ জীবনধারা গ্রহণ করেন।ধীরে ধীরে সেই দর্শন এবং জীবনযাপনের প্রভাব বিরাটের মধ্যেও দেখা যায়। একাধিক সাক্ষাৎকারে বিরাট নিজেই স্বীকার করেছেন যে, স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অনুষ্কার কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন।বর্তমানে এই তারকা দম্পতি শুধু নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস নয়,মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং নিয়মানুবর্তী জীবনধারাকেও সমান গুরুত্ব দেন।তাঁদের মতে,সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।