আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার বার্তা দিয়ে রাজ্য বিধানসভায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার জবাবি ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি এবং অপশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, আরজি কর কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই দুটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনগুলির অনুমোদন রাজ্য মন্ত্রিসভাও দিয়েছে। তাঁর দাবি, আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অতীতের নানা অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই বাংলার মানুষ সরকার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, আরজি কর মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানান। শুধু আরজি কর নয়, তামান্না হত্যা মামলা, রামপুরহাটের আদিবাসী কন্যার মৃত্যু, কামদুনি, হাঁসখালি এবং কসবা ল’ কলেজ-সহ নারী নির্যাতনের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রেও সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন করে খোলা হয়েছে ‘আরজি কর ফাইলস’। মামলার তদন্তে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ইতিমধ্যেই একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতেও তৎপরতা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি পানিহাটিতে গিয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। তদন্তে নতুন তথ্য ও সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এ দিন বিধানসভায় এক আবেগঘন মুহূর্তেরও সাক্ষী থাকেন উপস্থিত সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মেয়ের নাম এবং বিচারের আশ্বাস শুনে গ্যালারিতে বসে থাকা নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কেঁদে ফেলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর আরজি কর কাণ্ডে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।