newsaajbangla
ভোটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে বুধবারের পরে বৃহস্পতিবারও নিজের উষ্মা প্রকাশ করলেন তিনি। এ দিন তাঁর অভিযোগ, মহিলা ও শিশুদেরও মেরেছেন ভোটের ডিউটিরত পুলিশকর্মীদের কেউ কেউ। যদিও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই পুলিশ রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ করার দিনই বিজেপি নেতা, তথা খড়্গপুর কেন্দ্রের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ আবার পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তিনি মনে করেন, এ বারের ভোটে পুলিশের শরীরী ভাষাই বদলে গিয়েছে।
এ দিন ভোট নিয়ে একটি ভিডিয়ো–বার্তায় মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে আমাদের বক্তব্য রয়েছে। নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যাঁরা আমার হাতে ছিলেন না, তাঁরা মেয়েদের মেরেছেন, বাচ্চাদেরও মেরেছেন।’ মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফা ভাবে মার খেয়েছেন, তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে অকারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রের নামও উল্লেখ করেন মমতা — ‘আমাদের কর্মীদের মেরেছে যাতে তাঁরা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে না পারেন।
বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দলে। ভবানীপুরেও সারা রাত রেড হয়েছে। আমি দু’দিন ঘুমোইনি।’ যদিও দিলীপের পাল্টা বক্তব্য, ‘পুলিশের শরীরী ভাষা যখন বদলে গিয়েছে, তখনই বোঝা যাচ্ছে পরিবর্তন হবে।’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গে টেনে দিলীপ বলেন, ‘উনি এ বার দু’দফায় ভোট করে খুব বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ভোট করে দেখিয়েছেন। চাইলে প্রশাসন অনেক কিছু করতে পারে।’ এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনারই নন, ভোটে আধাসেনাও তাদের কর্তব্য পালন করেছে।
এমনকী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের বডি ল্যাঙ্গোয়েজও বদলে গিয়েছে। পুলিশ চাইছে সুযোগ দেওয়া হোক। কিছু করে দেখাতে চাইছে।’এখানে উল্লেখ্য, এবার ভোটদানে রেকর্ড গড়েছে বাংলা। এবার মূলত, শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই ছিল মূলত নির্বাচন কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জ। ভোটাররা যাতে ভয়হীন ভাবে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই দিকে বারেবারে নজর রেখেছে কমিশন। ভোট শুরুর অনেক আগেই আস্থা জোগাতে বঙ্গে হাজির করানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।