Mamata Banerjee-Congress
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার ১০ জনপথে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লির ১০ জনপথে সনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে কংগ্রেস নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আর বুধবার সকালে ওই বাড়িতেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর ফের কি পুরনো দলেই ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)? রাজনৈতিক মহলে এমন জল্পনাই এখন তীব্র হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধির (Soniya Gandhi) সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক একান্ত বৈঠকের পরই তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দলের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi)।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙন রুখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ, দলের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে লোকসভা ও বিধানসভার বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের প্রতীক ও তহবিল দখলের চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কি কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ফেরার পরিকল্পনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাহুল-অভিষেক বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মমতা এবং অভিষেক। সেই কারণেই মমতা-সনিয়া বৈঠকের পরের দিনই অভিষেক রাহুলের দুয়ারে গেলেন বলে মনে করছেন অনেকে।
যদিও এই খবরে অস্বস্তি বেড়েছে রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরে। দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের দলে নেওয়ার বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছে। তবে এই বিষয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar)। তিনি জানান, “রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। তবে রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব ও মতাদর্শ মেনে যারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসতে চান, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য কংগ্রেসে কোনো জায়গা নেই।” অন্যদিকে, এই জল্পনায় কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আবার কংগ্রেসে ফিরে যান, তবে ‘পুনঃ মুষিক ভব’ প্রবাদটিই সত্য হবে।” তৃণমূল সুপ্রিমোর এই সম্ভাব্য দলবদল ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে যেমন তৎপরতা বেড়েছে, তেমনই তৃণমূল ও কংগ্রেস—উভয় শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। তৃণমূল সূত্রে খবর, রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। দু’জনের মধ্যে ‘ইতিবাচক বৈঠক’ হয়েছে বলে ওই সূত্রের দাবি।