Bangladeshi
কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের পরে এ দেশে দিব্যি সংসার পেতে বসেছেন। পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছেন ১৪টি বছর। বানিয়ে ফেলেছেন সমস্ত কাগজপত্র। ভারতে ঢোকার পরে শুরুতে রাস্তায় ডাব ও তাল বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই বিপুল সম্পত্তির মালিক ওঠেন রমজান গাজি।হাওড়ার জগাছার উনসানি এলাকায় দোতলা বাড়ি, লরির ব্যবসা থেকে শুরু করে নামে ও বেনামে একাধিক সম্পত্তির মালিক। বেআইনি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে সম্প্রতি পুলিশের হাতে ধরা পড়া রমজান গাজি ও তাঁর স্ত্রী সাদিনা বেগমের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের!
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বাংলাদেশি দম্পতি প্রায় ১৪ বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রতনপুর এলাকা থেকে দালালদের সাহায্য নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তারপরে হাওড়ার জগাছা থানার উনসানি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শুরুতে ডাব ও কাঁচা তাল বিক্রি করলেও কয়েক বছরের মধ্যেই হাওড়ার উনসানিতে জমি কিনে একটি দোতলা পাকাবাড়ি নির্মাণ করেন রমজান। শুধু তাই নয়, পরিবহণ ব্যবসাতেও টাকা ঢালেন। কিনে ফেলেন লরি। এখানেই খটকা লাগছে পুলিশের। তদন্তকারীদের দাবি, ডাব ও তাল বিক্রি করে কখনও এত টাকার মালিক হওয়া যায় না। এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য থাকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নিয়ে হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠক থেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। এরপরেই পুলিশের তরফে শুরু হয় ধরপাকড়। সেই সময় জগাছার উনসানি এলাকা থেকে ধরা হয় রমজানি গাজি এবং সাদিনা বেগমকে। ধরা হয় আরও বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারীকে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১৪ বছর আগে বেআইনিভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকে ওই দম্পত্তি। সবার নজর এড়িয়ে সেখানে একেবারে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করে দেন তাঁরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে জগাছা থেকে ধৃত দম্পতি ১৪ বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রতনপুর এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে আসে।
এরপর জগাছার উনসানির একটি ভাড়া বাড়িতে প্রথমে বসবাস শুরু করে। প্রথমে এই পরিবারটি এলাকায় ডাব ও তাল বিক্রি করত। ডাব ও তাল বিক্রি ছেড়ে স্থানীয় প্রোমোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে পুরোনো বাড়ি ভাঙার বরাত পায় পরিবার কর্তা রমজান। পরবর্তীকালে তিনি এই কাজই করতেন।পুলিশ জানায়, এরই মধ্যে ওই ব্যক্তি একটি লরি কেনেন। ওই লরিতেই ভাঙা বাড়ির মালপত্র তুলে বিভিন্ন জায়গায় পুকুর বোজানোর কাজে বিক্রি করতেন। এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘’ধৃত ওই বাংলাদেশিকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। কিন্তু এই কয়েক বছরে এত লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক কী করে হয়ে উঠল রমজান সেটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’