Sushmita Dev
সুখেন্দুশেখর রায়ের পর সুস্মিতা দেব। তৃণমূলের আরও এক রাজ্যসভার সাংসদ ইস্তফা দিলেন। কেবল সাংসদ পদ ছাড়াই নয়, তৃণমূলের সমস্ত পদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা বাড়িয়ে বুধবারই দিল্লিতে সুস্মিতা দেখা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে। বুধবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দেন সুস্মিতা। চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে সুস্মিতা তাঁর ইস্তফাপত্র দ্রুত গ্রহণ করার আর্জি জানান। গত সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট ১৩ জন সাংসদ ছিলেন। সুখেন্দু এবং সুস্মিতা ইস্তফা দেওয়ায় তা কমে ১১ হল। সুস্মিতা আদতে অসমের রাজনীতিক। সে রাজ্যের প্রখ্যাত রাজনীতিক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কন্যা।
সুস্মিতা অসমের শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেরে যান তিনি। ২০২১ সালের অগস্ট মাসে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাঁকে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। ২০২১ সালে মানস ভুঁইয়া রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে সুস্মিতাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। সে বার তাঁর ভাঙা মেয়াদ শেষ হয় ২০২৩ সালের অগস্টে। সুস্মিতার পর ওই আসনে সামিরুল ইসলামকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। শান্তনু সেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফের রাজ্যসভায় যান সুস্মিতা। তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। মেয়াদ শেষ হওয়ার চার বছর আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন সুস্মিতা।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে রয়েছেন। সেইসময়ই দলের দুই রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন। সুস্মিতা দেব অসমের বাসিন্দা। দলের অসমের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরে। তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। জানা গিয়েছে, আজ, বুধবার সকালে দিল্লিতে রাজ্যসভার এই সাংসদের সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বৈঠক হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজই দুপুরে এনডিএর মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে চা চক্রে যোগ দেবেন বলে খবর। সেজন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে রয়েছেন। সেই আবহেই আজ সুস্মিতা ও হিমন্তের বৈঠক হয় বলে খবর। বিজেপিতে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জল্পনা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুস্মিতা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি অসমের মানুষ। বাংলার রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগ নেই। তারপর এদিন বেলায় সুস্মিতা দেব তৃণমূলের সাংসদ পদ ছাড়েন। সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইলেও তাঁর লেখা বদলে গিয়েছে। রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য লেখা আছে। জানা গিয়েছে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই সুস্মিতা দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হামলার পর থেকেও তাঁকে তেমন কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরাও ক্রমে বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন। সেই কথা কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই আবহেই দলের দ্বিতীয় রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করলেন। এই মুহূর্তে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১১। তাঁদের মধ্যে আর কারা পদ ছাড়বেন? সেই নিয়েই চলছে জোর জল্পনা।