IAF Official's Wife
ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) আধিকারিকের স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্মান্তকরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। ২৪ বছর বয়সি ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে হোটেলে ডেকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আপত্তিকর ভিডিয়ো তুলে ব্ল্যাকমেল করে টাকাও আদায় করা হয়েছে। এমনকী, জোর করে ধর্মান্তকরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও সামনে এসেছে, যা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তির নাম আজ্জাজ তাজ মাদরে। তিনি একসময়ে মহিলার সহপাঠী ছিলেন। সম্পত্তি কেনাবেচার কথা প্রসঙ্গে তিনি ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নাগপুরের ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে দেখা করতে ডাকেন। অভিযোগ, সেখানে জুসে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে তরুণীকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। মহিলার দাবি, সেই সময়ের ছবি ও ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিল অভিযুক্ত। ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।
এখানেই শেষ নয়, নির্যাতিতার অভিযোগ, পরে ওই ভিডিয়ো দেখিয়ে তাঁকে বারবার ব্ল্যাকমেল করা হয় এবং একাধিক বার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩.০৯ লক্ষ টাকা আদায় করেছে অভিযুক্ত। একই সঙ্গে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে ফের ডাকা হয় এবং ধর্মান্তকরণের জন্য বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করে দেখেনি এই সময় অনলাইন) ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি মহিলার হাত ধরে কিছু ধর্মীয় মন্ত্র বাক্য উচ্চারণ করছেন এবং মহিলা বারবার তাঁকে ছেড়ে দিতে বলছেন। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এই ঘটনার পরে তাঁকে বলা হয়েছিল তাঁর ধর্মান্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিয়োটি অভিযোগকারিণীই প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছেন এবং তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত পরে নির্যাতিতাকে নাগপুরের কালমেশ্বর এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আরও দু’জন ছিলেন যারা ওই মহিলাকে নিয়ে আরও কিছু ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করে তাঁকে ধর্মান্তরিত ঘোষণা করা হয়। মহিলার দাবি, এর পরে আবারও তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করা হয়। জানা গিয়েছে, ২৪ বছরের ওই যুবতীর স্বামী ভারতীয় বায়ুসেনার এক শীর্ষ আধিকারিক। তিনি কর্মসূত্রে অন্য শহরে থাকেন। তিনি বাড়ি ফেরার পরেই যুবতী তাঁকে সব কিছু জানান এবং পুলিশে গত ১৩ জুন অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল, অর্থ আদায়, ধর্মান্তকরণের চেষ্টা, কালা জাদু বিরোধী ধারা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃত দুই অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।