একুশে জুলাই নিয়ে ধোঁয়াশায় তৃণমূল, বড় প্রস্তুতিতে কংগ্রেস একুশে জুলাই মানেই বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতি বছর কলকাতার ধর্মতলায় লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে বিশাল জনসভার আয়োজন করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা ঘিরে প্রায় দু’মাস আগে থেকেই দলের অন্দরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি, সভাস্থল কিংবা আগের মতো বড় সমাবেশ হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি তৃণমূল।
দলের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, একুশে জুলাইকে ঘিরে বড় কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, এ বছর শহিদ মিনারে সভা করবে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের আশা, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে কিংবা জয়রাম রমেশের মতো সর্বভারতীয় নেতাদের মধ্যে কেউ না কেউ ওই সভায় উপস্থিত থাকবেন। কংগ্রেসের দাবি, কর্মসূচিটি বড় আকারেই আয়োজন করা হবে।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই একুশে জুলাই নিয়ে তৃণমূলের এই অনিশ্চয়তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনে খারাপ ফলের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ ও ভাঙনের খবর সামনে এসেছে। একের পর এক নেতা-নেত্রীর দলত্যাগে সংগঠন কিছুটা চাপে রয়েছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও এখনও দলের পাশে রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষের মতো পুরনো নেতারা।সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের আগে বাংলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয় এবং কংগ্রেসের কর্মসূচি কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।