উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকার সার্বিক উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের পরিবর্তে বঞ্চনা ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, যার ফলে বহু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, গত অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকার গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র জন্য প্রায় ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না হয়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য পাঠানো অর্থ সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে পাহাড়ের সার্বিক বিকাশের জন্য বাজেট একধাক্কায় দ্বিগুণ করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পাহাড়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা বাগানগুলি পুনরায় চালুর জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন, চা শিল্প উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা পুনরায় সচল হবে। সব মিলিয়ে পাহাড়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতিকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী