তিস্তার পারে দেখা মিলল বিরল সাদা অ্যালবিনো পাইথনের, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য উত্তরবঙ্গে
উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদীর তীরে এক বিরল সাদা রঙের বিশালাকার পাইথনের দেখা মিলেছে। দার্জিলিং জেলার লিখুভির এলাকায় জাতীয় সড়ক ১০-এর সংলগ্ন তিস্তার পাড়ে সাপটির উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাপটির ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি তিস্তা নদীর তীরে সাদা রঙের একটি বিশাল সাপকে দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যেই একজন, রাধাকৃষ্ণণ পানিক্কর, মোবাইল ফোনে সাপটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষের নজর কেড়ে নেয়।
বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি বিরল অ্যালবিনো পাইথন হতে পারে। অ্যালবিনিজ়ম একটি জিনগত বৈশিষ্ট্য, যার ফলে প্রাণীর শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থ বা মেলানিনের অভাব দেখা যায়। এর কারণেই প্রাণীর গায়ের রং সাদা বা দুধসাদা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্য পরিবেশে অ্যালবিনো প্রাণী খুব কমই দেখা যায়। কারণ তাদের অস্বাভাবিক রং প্রাকৃতিক পরিবেশে সহজেই নজরে পড়ে, যা তাদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
তবে সাপটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি সত্যিই অ্যালবিনো পাইথন কি না।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে সিকিম এবং উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীতে ব্যাপক জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে সাপটি বেরিয়ে এসে বন্যার জলে ভেসে তিস্তার তীরে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে কর্নাটকে একটি অ্যালবিনো পাইথনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও রাজ্যে এর আগে এমন সাপের দেখা মেলেনি বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। ফলে তিস্তার তীরে এই বিরল সাদা পাইথনের উপস্থিতি প্রকৃতিপ্রেমী, গবেষক এবং বন্যপ্রাণ অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি করেছে।