ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁকে নিয়ে যতই আলোচনা-সমালোচনা হোক না কেন, শুভমান গিল বারবার প্রমাণ করছেন কেন তাঁকে বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ব্যাটার বলা হয়। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আবারও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন ভারত অধিনায়ক।লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন গিল।দুর্দান্ত টাইমিং এবং নিখুঁত শট নির্বাচনের মাধ্যমে মাত্র ৭৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি।তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা।এটি গিলের ওয়ানডে কেরিয়ারের নবম শতরান।এর আগে প্রথম ম্যাচেও তিনি বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।সম্প্রতি সবচেয়ে দ্রুত ৩,০০০ ওয়ানডে রান পূর্ণ করা ভারতীয় হিসেবেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি, যা তাঁর ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
তবে গিলের শতরানের আনন্দ বেশিক্ষণ একার থাকেনি। অন্য প্রান্তে ঝড় তুলেছিলেন ঈশান কিষান।জাতীয় দলে ফেরার পর থেকেই নিজের ব্যাট দিয়ে নির্বাচকদের আস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। আফগান বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হয়ে মাত্র ৭১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।চার-ছক্কার বৃষ্টিতে সাজানো তাঁর ইনিংস দর্শকদের মুগ্ধ করে।শতরানের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ঈশান এবং শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ১২৫ রান করে আউট হন।তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কা।মাঠের চারদিকে অনায়াসে শট খেলে তিনি বুঝিয়ে দেন,সুযোগ পেলে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
এই ইনিংসের সুবাদে ব্যক্তিগত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকও স্পর্শ করেন ঈশান।নিজের ২৬তম ওয়ানডে ইনিংসে ১,০০০ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে রান পূর্ণ করেন তিনি।ফলে দ্রুততম ১,০০০ রান করা ভারতীয়দের তালিকায় যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন।তালিকার শীর্ষে রয়েছেন শুভমান গিল, যিনি মাত্র ১৯ ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।গিল ও ঈশানের জোড়া শতরানে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের শক্তি আরও একবার ফুটে উঠল।দুই তরুণ তারকার দুর্দান্ত ইনিংস আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতকে শুধু শক্তিশালী অবস্থানেই পৌঁছে দেয়নি, ভবিষ্যতের জন্যও বড় বার্তা দিয়ে গেল।