ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারত ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচের পর তৈরি হয়েছে বড়সড় বিতর্ক। সোমবারের এই হাইভোল্টেজ লড়াই নির্ধারিত ৫০ ওভারে সমতায় শেষ হওয়ার পর ফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ রান। শ্রীলঙ্কার পেসার কুগাতাস মথুলানের করা দুর্দান্ত ইয়র্কারে রান তুলতে ব্যর্থ হন ভারতের তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। সেই সঙ্গে হার নিশ্চিত হয় ভারতের। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের ক্রিকেটাররা যখন নিয়মমাফিক হাত মেলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। বৈভব হঠাৎই প্রতিপক্ষ দলের এক ক্রিকেটারের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেন। মুহূর্তের মধ্যেই মাঠের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ভারতের সূর্যাংশ শেড়গে এবং শ্রীলঙ্কার নিরোশন ডিকওয়েলা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বড় ধরনের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পর ভারতীয় অধিনায়ক তিলক বর্মা বৈভবের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ম্যাচ চলাকালীন এবং ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ক্রিকেটার ভারতীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বারবার কটূক্তি ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি, বৈভবকেও ব্যক্তিগতভাবে উত্ত্যক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এমন আচরণের শিকার হওয়ার ফলেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তরুণ এই ব্যাটার। তিলকের মতে, পুরো ঘটনার পেছনে শুধুমাত্র বৈভবকে দায়ী করা উচিত হবে না।
ভারতীয় দলের কোচ সাইরাজ বাহুতুলেও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, বৈভব সাধারণত শান্ত স্বভাবের ক্রিকেটার এবং মাঠে কখনও বিতর্কে জড়ান না। তাই এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবেই দেখা উচিত। অন্যদিকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছেন, বোর্ড আপাতত কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়। তবে ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সতর্কবার্তা বা জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এখন দেখার, এই বিতর্কের শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি হয়।