ভারতের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত একাই ধসিয়ে দিলেন আয়ারল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার জয় মুন্দ্রা।মাত্র দুই ম্যাচে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজ়সেরার সম্মান জিতে নিয়েছেন তিনি।তাঁর নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং ধারাবাহিক বোলিংয়ের সামনে অসহায় দেখিয়েছে ভারতের তারকা ব্যাটারদের। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়,মাত্র ছ’মাস আগেও ক্রিকেট নয়, বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এই ২৯ বছরের ক্রিকেটার।ভারতের রাজস্থানে জন্ম নেওয়া জয় বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন।অভিষেক সিরিজ়েই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি শুধু ভারতকেই চাপে ফেলেননি,নিজের প্রতিভারও জোরালো প্রমাণ দিয়েছেন।
২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আয়ারল্যান্ডে পাড়ি দেন জয় মুন্দ্রা।সেখানে ইলেকট্রনিকস ও কমিউনিকেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি শুরু করেছিলেন।তবে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সেই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর নতুন কাজের সন্ধানে দীর্ঘদিন ঘুরতে হয় তাঁকে।ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি।একসময় মনে হয়েছিল,হয়তো ক্রিকেটে আর ফেরা হবে না।রাজস্থানে ঘরোয়া ক্রিকেট খেললেও পেশাদার ক্রিকেট প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় একটি ক্লাব ম্যাচে তাঁর বোলিং নজর কাড়ে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের এক কর্মকর্তার।সেই সুযোগই বদলে দেয় তাঁর জীবন।জাতীয় দলের কয়েকজন পেসার চোট পাওয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেকের সুযোগ পান জয়,আর সেই সুযোগকে অসাধারণ সাফল্যে পরিণত করেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে সঞ্জু স্যামসন ও শিবম দুবের উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুতেই শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকে।এরপর অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ব্যাটিংকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেন তিনি।সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি ভারত।সিরিজ়সেরা হওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জয় বলেন,ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন সাফল্যের কথা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি।কঠিন সময়ে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তাঁর উপর আস্থা রেখেছিল বলেই আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন।বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের বিরুদ্ধে অযথা বৈচিত্র না এনে নিজের শক্তির উপর ভরসা রেখে সঠিক জায়গায় বল করাতেই এসেছে এই সাফল্য।এই পারফরম্যান্সের পর আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলে জয় মুন্দ্রার জায়গা যে দীর্ঘদিনের জন্য প্রায় নিশ্চিত,তা বলাই যায়।