ভারতীয় মহিলা দলের সামনে এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প নেই।গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নজর কেড়েছিল ভারত,এবার সেই সাফল্য টি-টোয়েন্টিতেও ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য হরমনপ্রীত কৌরদের। তবে কাজটা মোটেও সহজ নয়।ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে,অন্যদিকে ভারত এখনও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের খোঁজে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ফিল্ডিং।চার ম্যাচে ১১টি ক্যাচ হাতছাড়া করেছে ভারত, যার মধ্যে রাধা যাদব একাই ফেলেছেন চারটি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছে,দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন ভুল করলে তার মূল্য আরও বেশি দিতে হতে পারে।
ম্যাচের আগে সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে গোটা দল।তাঁর মতে,ব্যাটিং ইউনিটের প্রত্যেকেই বড় ইনিংস খেলতে প্রস্তুত এবং শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলাই দলের পরিকল্পনা।এখনও পর্যন্ত ভারত নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।তাই শেফালি বর্মা,হরমনপ্রীত কৌর,রিচা ঘোষ ও জেমাইমা রডরিগেজদের উপর থাকবে বড় দায়িত্ব।অন্যদিকে চোট কাটিয়ে দলে ফিরতে পারেন ফোবি লিচফিল্ড,যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় স্বস্তি।দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও অজিদের পক্ষেই—৩৮টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে ২৭টিতে জয় তাদের,বিশ্বকাপেও এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেই ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে না।সে ক্ষেত্রে নজর রাখতে হবে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের দিকে।বাংলাদেশ জিতলে তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৬ এবং নেট রানরেটে নির্ধারিত হবে শেষ চারের টিকিট।অবশ্য এমন সমীকরণের উপর ভরসা না করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইবে ভারত।তাই লক্ষ্য একটাই—অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যাওয়া।লর্ডসের উইকেটে রান তাড়া করা দল তুলনামূলকভাবে সফল হওয়ায় টসে জিতে আগে বোলিং করার সম্ভাবনাই বেশি।কাগজে-কলমে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকলেও বড় মঞ্চে চমক দেখানোর ক্ষমতা ভারতের রয়েছে।এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় কি না,সেটাই দেখার।