উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা। মৃতের নাম কার্তিক সাউ (৫৯)। তাঁর বাড়ি কাঁকিনাড়ার ফিঙ্গাপাড়া পদ্মপুকুর রোড এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালদহ মেইন শাখার বিভিন্ন ট্রেনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি ট্রেনে হকারি নিয়ে রেলের কড়াকড়ি বাড়ায় তিনি প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন। জীবিকা হারানোর আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
মৃতের ছেলে রাহুল সাউ জানান, গত সপ্তাহে ট্রেনে হকারি করার অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষ তাঁর বাবার কাছ থেকে ১,৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। সেই টাকা জোগাড় করতেই পরিবারের যথেষ্ট কষ্ট হয়। জরিমানার পর থেকেই কার্তিকবাবু ভীষণ ভেঙে পড়েন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার বাড়িতে ফিরে তিনি হতাশার কথা জানিয়েছিলেন। পরে আবার ঝালমুড়ির বাক্স নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।
রবিবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে আপ মা তারা এক্সপ্রেসের সামনে ঝাঁপ দেন কার্তিক সাউ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্টেশনের একটি দোকান থেকে তাঁর ঝালমুড়ির বাক্স উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেল পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও আত্মহত্যার কারণ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি রেল পুলিশ।
সহকর্মীদের দাবি, ১ জুলাই থেকে ট্রেনে সম্পূর্ণভাবে হকারি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আশঙ্কাই কার্তিকবাবুর মানসিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও এ বিষয়ে রেলের তরফে কোনও সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।
কার্তিক সাউ ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, বৃদ্ধা মা, বিবাহিত ছেলে এবং এক বিবাহিত মেয়ে। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবার কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার আত্মহত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের ট্রেনে হকারদের ভবিষ্যৎ ও জীবিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।