ডিম-কাণ্ডের পর কালীঘাটে মমতার বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা! উঠোনে বসানো হল নীল ফেন্সিং
রাজ্যজুড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনার আবহে এবার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হল। সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ির উঠোনে নতুন করে নীল রঙের ফেন্সিং বসানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বেলেঘাটা বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। অভিযোগ, এক যুবক কুণাল ঘোষের দিকে ডিম নিক্ষেপ করেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল নেতা। তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
শুধু কুণাল ঘোষ নন, গত কয়েক মাসে রাজ্যের একাধিক তৃণমূল নেতাকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার পর সোনারপুরে একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়।
এছাড়াও রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের দিকে ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে গোবর ছোঁড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে বিরোধিতা ও ক্ষোভ প্রকাশের নতুন মাধ্যম হিসেবে ‘ডিম থেরাপি’ শব্দবন্ধও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থাকা ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। ফলে কে কখন বাড়ির সামনে আসছেন বা রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াত হচ্ছে, তা সহজেই নজরে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতেই নতুন ফেন্সিং বসানো হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।