আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যু ও নির্যাতনকাণ্ডে ফের নতুন মোড়। মামলার পুনর্তদন্তের আবহে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন নির্যাতিতার মা। তাঁর বক্তব্য, এই বহুচর্চিত ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র একজন অভিযুক্তকে ঘিরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়, বরং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য সব প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আদালতের নির্দেশে মামলার একাধিক দিক নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। সেই আবহেই পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত গোটা ঘটনায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে, যা এতদিন পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে মেয়ের দেহ দেখতে না পেয়ে তিনি এবং তাঁর স্বামী থানায় যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাঁদের। সেই সময় মেয়ের মরদেহের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার পর প্রশাসনের কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগ, পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন।
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তিনি তুলেছেন দাহ প্রক্রিয়া নিয়ে। পরিবারের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই কীভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল, কার নির্দেশে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং কোন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়েছিল, সেই বিষয়গুলি পুনর্তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে দাবি তাঁর। শ্মশানে মরদেহ রাখার স্থান, দাহের অনুমোদন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের অনেকেই এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট করা বা তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগে এখনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পরিবারের।
তবে সমস্ত বিতর্ক ও অভিযোগের মধ্যেও বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত সত্য সামনে আসবে এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে। ইতিমধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুনর্তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজ্যবাসীর।